পার্বতীপুরে সংখ্যালঘু নাপিতের কোটি টাকার বসতবাড়ি দখল ও হত্যার চেষ্টা

মাহফিজুল ইসলাম রিপন

সংখ্যালঘুদের বাগান বাড়িতে হামলা বসতবাড়ি দখল এবং হত্যা চেষ্টা এবং কোটি টাকার মুল্য জমি দখলের পায়তারা করেছে একটি মহল । এ ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় মন্মথপুর ইউনিয়নের দ্যাগলাগঞ্জ বাজার(তাজনগর) এলকায় গত ৪ অক্টোবর ববিবার ভোর রাতে। তবে মসজিদে আগত মুসুল্লিদের প্রতিরোধে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। চেনা ঠাকুরের ছেলে সন্তোষ ঠাকুর(৩৫) ও প্রতিবেশীরা তাকে ফুটবল খেলার মাঠ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। এঘটনায় পার্বতীপুর মডেল থানায় গত ৪ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দেন সন্তোষ ঠাকুর। অভিযোগটি ১২ অক্টোবর এজাহার হিসেবে গ্রহন করা হয়। গত শনিবার (১০অক্টোবর) বেলা ৩টায় সরেজমিনে দ্যাগলাগঞ্জ বাজার গিয়ে কথা হয় নাপিত চেনা ঠাকুর, ছেলে সন্তোষ ঠাকুর ও সন্তোষের স্ত্রী পপি দেবীর (৩০) সাথে। চেনা ঠাকুর বলেন, জে,এল নং- ৮, খতিয়ান নং- ৬৫৫ ও ৯৮০নং দাগের জমির মালিক আমি। ৫১শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া। অবশিষ্ট ৩৬ শতকের মধ্যে ১৫শতক জমি নেছার উদ্দিন, পিতা মৃত আকালুর নিকট ক্রয় করা আর ২১শতক জমি মৃত ডহ ঠাকুরের ছেলে রাম প্রসাদ ঠাকুরের কাছে কিনে নেওয়া।

সন্তোষ ঠাকুর বলেন, ঘটনার দিন রাতে আমার বাবা প্রকৃতির ডাকে ঘুম থেকে জেগে ওঠা মাত্র দূর্বৃত্তরা তাকে চ্যাংদোলা করে পাশের খেলার মাঠে নিয়ে গিয়ে অমানুষিকভাবে মারপিট করে। এসময় নুর ইসলাম কাজী, মিজানুর কাজী ও নজরুল কাজীসহ ১৩ ব্যক্তি আমার বাবাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তারা আমাদের বাড়ি সংলগ্ন আম বাগানের বহু গাছপালা কেটে ফেলে। তারা সিমেন্টের খুটি ও নেট দিয়ে জমি দখলেরও চেষ্টা চালায়। সন্তোষের স্ত্রী পপি দেবী(৩০) বলেন, আমার বাবার বাড়ি নওগাঁ শহরে। আইএ পাশ করার পর পারিবারিকভাবে ১৫বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরপর জমি নিয়ে বিরোধের কথা জানতে পারি। আমার শ্বশুরকে এবার হত্যার চেষ্টা করেছে কাজীরা। এর আগে তিনবার তাকে মারধর করেছে তারা। জমি নিয়ে কোর্টে মামলা রয়েছে। বারবার তারা মামলায় হেরে গেলেও আবারও ছানি মামলা করে আসছে। প্রতিবেশী কাজী রুবেল আহম্মেদ বলেছেন, কাজীরা এখানে প্রভাবশালী। গত নির্বাচনে তারা ভোট সেন্টার পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা শুধু সংখ্যালঘু নিরীহ মানুষদের জমি দখলের চেষ্টা করছেনা, আমার মৃত শ্বশুরের তিন বিঘা জমি দখল করে রেখেছে। রুবেল আহম্মেদের স্ত্রী আফরোজা খাতুন দিনাজপুর সরকারী কলেজে মাস্টার্সের(ইংরেজি) ছাত্রী। তিনি বলেন, আমার বাবার তিন বিঘা জমি এই কাজীরা দখল করে নিয়েছে। সেদিন বাধা দিলে তারা আমার মাকে, আমার স্বামী ও আমাকে মারধর করে।

এব্যাপারে কাজী মিজানুর ইসলামের সাথে এ প্রতিনিধির কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমাদের জমির কাগজপত্র আছে। সেসব কাগজপত্র দেখাতে চেয়ে আর কোন যোগাযোগ করেননি। দ্যাগলাগঞ্জ বাজারে কমপক্ষে ৮ব্যক্তির সাথে কথা হয়েছে। তারা কেউ কাজীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে রাজী হননি। জানতে চাইলে তদন্ত দারোগা শ্রী বিধান চন্দ্র বর্মন বলেন, মামলার কাগজ পত্র হাতে পেয়েছি। এখন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। ইন্সপেক্টর(তদন্ত) সোহেল রানাও অনুরুপ কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্মথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজগর আলী বলেন, এ বিরোধ অনেক দিনের। এডিশনাল পুলিশ সুপার(ফুলবাড়ী সার্কেল) এ বিরোধ নিস্পত্তি করার চেষ্টা করেছিলেন। উভয়পক্ষকে ফুলবাড়ী ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে আমিও গিয়েছিলাম। সিন্ধান্ত হয়েছিল কোর্টে চলমান মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষ জমিতে যাবেননা।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :