পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে কাল বৈশাখীর ছোবল

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীর ছোবল, দুর্যোগ মোকাবিলায় চাই চূড়ান্ত প্রস্তুতি। ঋতুচক্রের হিসেব অনুযায়ী এখন চলছে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ের মওসুম বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীর প্রচন্ড তান্ডবে লন্ডভন্ড হচ্ছে মানববসতি, গাছপালা। পার্বত্য তিন জেলায়, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবনে কালবৈশাখীর ছোবলে প্রাণ হারাচ্ছে গরু- ছাগল থেকে আদম সন্তান পর্যন্ত। ঝড়ে গাছ পড়ে আহত হয়েছে অনেক লোকজন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উঠতি ফসলের। ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ি-গাছপালা। যদিও কালবৈশাখীর স্থায়ীত্ব দীর্ঘসময় ধরে হয় না। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু মিসমার করে দেয়। তবে জনসচেতনতা জোরালো হলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব তাই পরিবেশদূষণ রোধে ও কালবৈশাখীর ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক বলিষ্ঠ কর্মসূচি থাকা জরুরি একইসঙ্গে কালবৈশাখীতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি দুর্যোগকবলিত মানুষদের পুনর্বাসনে জোরদার উদ্যোগও থাকতে হবে। এ কথা ঠিক যে, কালবৈশাখী একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় একে আটকানোর ক্ষমতা মানুষের নেই। তবে প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সুচিন্তিত পদক্ষেপ থাকলে, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কালবৈশাখীর সময় সাধারণ মানুষের করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা সৃষ্টির যুৎসই কর্মসূচি গ্রহণ, পাশাপাশি ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের আশেপাশের অতি পুরনো গাছপালা কেটে ফেলা, জন ও যান চলাচলের পথে থাকা গাছপালার ডাল কেটে দেওয়া সময়ের চাহিদানুপাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ও যুক্তিসংগত উপায়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকাসহ নানামাত্রিক উদ্যোগ থাকলে কালবৈশাখীসহ বিভিন্ন দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কাঙ্খিত পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে কালবৈশাখীর মতো ব্যাপক ধ্বংসকারী ঝড়ের সামান্য আঘাতেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সুপ্রাচীনকাল থেকেই একটি নিয়মিত ঘটনা হিসেবে পরিচিত। যদিও বৈশাখ মাসেই কালবৈশাখীর ছোবল বেশি দৃশ্যমান হয়, তবে চৈত্রসহ অন্যান্য মাসেও টর্নেডোসদৃশ কালবৈশাখীর ছোবলে বিভিন্ন জনপদে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসেই এদেশে টর্নেডো জাতীয় কালবৈশাখীর ছোবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয় সাধারণ মানুষ এ সময়ে ঝড়, বৃষ্টি-বাদলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় দেশজুড়ে। তবে, বিশেষজ্ঞরা টর্নেডােকে সাধারণ ঝড় থেকে আলাদা মনে করেন। তাদের মতে, টর্নেডো হচ্ছে স্থলভাগে সৃষ্ট বায়ুস্তম্ভের আকারে প্রচন্ডবেগে ঘূর্ণনশীল ঝড়। এর স্থায়ীত্বকাল খুবই কম। কিন্তু ক্ষয়-ক্ষতি প্রচুর। বাংলাদেশে এ ধরনের ঝড় হয় সাধারণত মার্চের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে। তবে, এপ্রিল মাসেই বিপজ্জনক টর্নেডো সংঘটিত হয় বেশি।

 

আপনার মতামত লিখুন :