পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভয়াবহ অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

হারুন-অর-রশিদ বাবু(রংপুর)ঃ
রংপুরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডী ও তাঁর কার্যালয়ের মহোরা আঙ্গুরার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী ও দলিল লেখক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে দলিলে নানা ত্রæটি দেখিয়ে আপত্তি দেওয়া হয়। পরে ঘুষের বিনিময়ে রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে সেই দলিলই দ্রæত নিবন্ধন করে দেওয়া হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো কোনো দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দলিল নিবন্ধনের কাজ চলেছে।
স্থানীয় মাসুদ আলমসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে দলিল জমা দিলে নানা অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা দিলে একই দলিল কোনো ঝামেলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখকের দাবি, বণ্টননামা, নাদাবি ও সংশোধনী দলিলে সমঝোতার ভিত্তিতে শতকপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। হেবা ঘোষণাপত্র দলিলে অফিস খরচ বাবদ ২১০০ থেকে ৩৫০০ টাকা এবং আন্ডার ভ্যালু হিসেবে শতকপ্রতি ১৫ থেকে ২৮ টাকা আদায় করা হয়। সাফ কবলা ও দানপত্র দলিলে অফিস খরচ নেওয়া হয় ১৭৬০ টাকা করে। তাদের অভিযোগ, মহোরা আঙ্গুরা পীরগাছা অফিসে যোগদানের পর থেকেই সরকারি ফির নামে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স¤প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মহোরা আঙ্গুরাকে দলিল সম্পাদনের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক মৌখিক অভিযোগে বলা হয়, ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তাদের দলিল আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী সুমন চৌধুরী বলেন, দ্রæত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি আরও বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, এখানে নিয়ম নয়, ঘুষই শেষ কথা। টাকা না দিলে দিনের পর দিন দলিল আটকে রাখা হয়। মানুষ বাধ্য হয়ে রাতে এসে কাজ করাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, নিউজ করার আগে অফিসে আসেন, সাক্ষাতে কথা হবে। অভিযোগ প্রসঙ্গে মহোরা আঙ্গুরাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন,আমরা ফি আদায় করি, এটা সবাই জানে। কিছু বেশি নেওয়া হয়, সেটা দিয়ে কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে ম্যানেজ করতে হয়। আপনি যা পারেন লেখেন, তাতে আমার কিছু হবে না। পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ