পুত্রদের অত্যাচারে মাতা ভিটেহীন

মোহাম্মদ শাহ্ আলম শফি, কুমিল্লা

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার যশপুর গ্রামের বিধবা হালিমা বেগমকে তার পুত্র মাইনউদ্দিন, জাহাঙ্গীর,লিটন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে সামাজিকভাবে ও থানায় বিচার চেয়েও কোন প্রতিকার পায়নি নিরীহ হালিমা। বিচারের বাণী কাঁদছে নিরবে নিভৃতে। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়,হালিমার স্বামী জীবিত থাকা কালে তার নামে ৯ শতক ভূমি ৪৪৫৭ নং দানপত্র দলিল এবং ছোট মেয়ে নাহিদা সুলতানা সুমির নামে ১৬ শতক ভূমি দান পত্র দলিল নং- ৪৪৫৬ মূলে সম্পাদন করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইনউদ্দিন, জাহাঙ্গীর,লিটন প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পিতা – মাতা ও বোনকে হেনস্থা করতে থাকে। নিরোপায় হয়ে হালিমা বেগম বিজ্ঞ আদালতে মামলা করলে মাইনউদ্দিনকে বিচারক জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। নোয়াব মিয়া জীবিত থাকাবস্থায় মাইনউদ্দিন তাঁকে ফুসলিয়ে ১৩৭ শতক ভূমি বিভিন্ন দাগে ৩ ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়।

দলিল সম্পাদনের পর পিতা ও মাতার উপর মাইনউদ্দিন গংরা নির্যাতনের ষ্ট্রীম রোলার চালায়। পুনরায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বৃদ্ধা নোয়াব মিয়া ও স্ত্রী হালিমা সমাজ প্রতিদের দ্রারে দ্রারে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করে। সমাজের মাতাব্বররা মাইনউদ্দিন গংরা অসামাজিক ও দুষ্ট প্রকৃতির বিধায়, তারা বিচার করতে অপারকতা প্রকাশ করে। নোওয়াব মিয়া ও হালিমা বেগম কোন উপায়ান্তর না পেয়ে সন্তানদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মাইনউদ্দিনগংদের ভয়ে এলাকার কেউ শালিস দরবার করার সাহস পাচ্ছে না। মাইনউদ্দিনের স্ত্রী, লিটন, জাহাঙ্গীর ও তাদের স্ত্রীদের অনুরোধে এলাকায় এক শালিস বৈঠক হয়। বৈঠকে পিতা মাতার উপর কোনরূপ অত্যাচার করবে না মর্মে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে ঘোষণা দিলে মাতা হালিমা বেগম মামলাটি প্রতাহার করে নেন। মাইনউদ্দিন জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় পিতা – মাতাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পিতার সম্পদ জোর পূর্বক রেজিস্ট্রি করে নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি মাইনউদ্দিন গংরা।

ছোট বোন নাহিদা সুলতানা সুমি ১৬শতক ভূমি কোরানি হেবা মুলে দান করে দেন ভগ্নিপতি আব্দুছ ছাত্তারের নামে। ২০১৯ সালে ১৬ শতক জমির খারিজ এর জন্য আমড়াতলি ভূমি অফিসে আবেদন করে। ২০২০ সালের ১৬ ই মার্চ ছাত্তারের নামে খারিজ হয়। ছাত্তার ৩০শে জুন ২০২০ ইং তারিখে এই জমির খাজনা বা দাখিলা আদায় করেন,ইতি মধ্যে মাইনউদ্দিন গং ছাত্তারকে জানে মেরে ফেলার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসচ্ছে, ছাত্তার জীবন নাশের ভয়ে গত ০৩/১১/২০২০ইং তারিখে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে, পরদিন তার স্ত্রী সুমি ও তার বড় বোন মিনোয়ারা বেগম এবং নার্গিস আক্তার কে নিয়ে তাদের জমি দেখতে গেলে মাইনউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, লিটন ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সবাইকে লাটি সোটা দিয়ে গুরুতর আহত করে। সুমি তাৎক্ষনিক ০৪/১১/২০২০ইং তারিখে মারধরের বিচার চেয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে কোতয়ালী মডেল থানার এস.আই মাজেদুল ইসলাম. তাদের উভয় পক্ষকে থানায় ডাকলে মাইনউদ্দিন গং থানায় আসেননি। এদিকে আবারো মাইনউদ্দিন গং তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে মেরে ফেলার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এদিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) বরাবরে আব্দুর ছাত্তার নামীয় নামজারি/খারিজ বাতিলের জন্য এক অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য নোটিশ প্রদান করেছেন। এ ব্যাপারে মাইনউদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সম্পত্তির জন্য জেল খেটেছি, আমার ছোট বোন সুমি স্বামীর নামে দলিল সম্পাদন করে দিয়েছে। তা আমরা তিন ভাই মেনে নিতে পারছি না। তাই খারিজ বাতিলের জন্য অভিযোগ করেছি।

নিরীহ আব্দুছ ছাত্তার জানান, আশা করি আমি ন্যায় বিচার পাবো। হাল সন পর্যন্ত আমার খাজনা পরিশোধ আছে। মাইনউদ্দীন গংরা আমি ও আমার পরিবারকে বিভিন্ন হুমকী ধমকী দিয়ে আসছে। এ.সি ল্যান্ড অফিসে হাজিরা দিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এদিকে মাইনউদ্দীনের বৃদ্ধা মা হালিমা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন ছেলেরা আমাকে দেখাশোনা, খানা-পিনা, ঔষধ না দিয়ে উল্টো অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে, আমাকে এলোপাথারী মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে এবং আমাকে বাড়ি থেকে বাহির করে দেয়। বর্তমানে আমি এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি। আমি এ অন্যায় অবিচারের আইনপ্রয়োগ কারীদের নিকট সুবিচার প্রার্থনা করি।

আপনার মতামত লিখুন :