নিজেস্ব প্রতিবেদক :
ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়কে ঘিরে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। পদোন্নতিতে বিধি লঙ্ঘন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ পূরণ না করেই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ক্যাশিয়ার ও প্রধান সহকারী পদে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিধি উপেক্ষার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তির প্রভাব বজায় ছিল। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব বণ্টনের প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে এমন প্রভাব বিস্তার প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিনিময়ে লাইসেন্স নবায়ন ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একাধিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যালয়ের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আর্থিক লেনদেনে তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পদোন্নতি সংক্রান্ত একাধিক আদেশে সময়সীমা, যোগ্যতা এবং বাস্তব দায়িত্ব পালনের তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পূরণ না করেই উচ্চতর গ্রেড ও পদে উন্নীত করার অভিযোগও করা হয়েছে। প্রশাসনিক প্রভাব ও অনানুষ্ঠানিক তদবিরের মাধ্যমে এসব সুবিধা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের ভেতরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন,নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরাই সুবিধা পান।
অভিযোগকারীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্যখাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম চলতে থাকলে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কার্যালয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে, সব পদায়ন ও পদোন্নতি বিধি মেনেই হয়েছে। অভিযোগকারীরা অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে পদোন্নতি, লাইসেন্স ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু একটি দপ্তরের নয়, পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহির প্রশ্ন তুলে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম