বগুড়ায় স্বামীর মারধরে আহত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তারকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকালের দিকে এই ঘটনা ঘটলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে আহত অবস্থায় ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ফাহিমা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফাহিমার স্বামীর নাম শাহ কামাল তালুকদার। তিনি উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের দামগাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বগুড়া জেলা ছাত্র লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার সাথে শাহ কামালের পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ২০ মার্চ বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন একটি কাজী অফিসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় শাহ কামাল নগদ ১ হাজার টাকা দেনমোহর পরিশোধ করেন। তাদের উভয়ের এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

তবে শাহ কামাল আগামী ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়ায় বিয়ের বিষয়টি উভয়েই গোপন রাখেন। কিন্তু শাহ কামালের বাবা অসুস্থ হওয়ায় স্ত্রী ফাহিমা আক্তারের কাছে থেকে চিকিৎসা ও পারিবারিক সমস্যার নামে বিভিন্ন সময় ৬ লাখ টাকা নেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে মাঝেমধ্যেই বাক বিত-া এবং সাংসারিক দ্বন্দ্ব লেগেই থাকতো। ফাহিমা জানান, গত শুক্রবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ৬ লাখ টাকা ফেরত চাইলে শাহ কামাল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনার একপর্যায়ে বুধবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় বাক বিত-া শুরু হয়। এ সময় শাহ কামাল, ভাগনি মারিয়া ও ফুফু শাশুড়ী আঞ্জুয়ারা বেগম ফাহিমাকে বেধরকভাবে মারধর করেন। এ সময় সেখানে শাহ কামালের প্রথম স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফাহিমা আক্তারকে উদ্ধার করে।

পরে তাকে আহত অবস্থায় বগুড়া শজিমেকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার বলেন, শাহ কামাল আমার সাথে প্রতারণা করেছে। তার পূর্বের বউ রেখে আমাকে বিয়ে করেছে। শুধু তাই নয় ওই প্রতারক তার বাবার চিকিৎসা ও পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আরো ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমি এ জন্য আইনের সহযোগিতা নিব। জানতে চাইলে শাহ কামাল বলেন, ফাহিমা আমার স্ত্রী ঠিক আছে কিন্তু টাকার বিষয়টি সঠিক নয়। প্রকৃত পক্ষে সে আমার কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাবে। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানকে মারধরের খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। এটি তাদের পারিবারিক সমস্যা। এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। সোনাতলা-শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :