বনবিভাগের জমিতে কাচাঁবাজার স্থাপন পার্বতীপুরে হাট চান্দিনার জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

মাহফিজুল ইসলাম রিপন

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথরখনি সংলগ্ন এলাকায় এক শ্রেনীর কতিপয় ভুমিদস্যূ বন ভূমির যায়গা দখল করে হাট ও কাচাঁবাজার স্থাপন এবং হাট চান্দিনার নির্ধারিত স্থানে সাবেক ইউপি ভবন দখলের পর বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে । এরা পারেনা এমন কোন কাজ নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন ক্ষমতাসীন দলের ছায়াতলে আশ্রয় নেয় এসব সুবিধাবাদীরা। ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে হন্নে হওয়ে ওঠে তরা। এতে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়। পাল্টে যায় তাদের জীবন যাপনের ধরণ। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত মধ্যপাড়া পাথর খনি। বন বিভাগের মধ্যপাড়া বীটের অবস্থান পাথরখনি সংলগ্ন। রাস্তার পশ্চিমে বনবিভাগের যায়গায় ১৯৮৬ সালে বনবিভাগ কর্তৃক শ্রীজিত উডলট বন (সফল বাগান) করা হয়। সেটি দেখভাল করার জন্য সভাপতি করা হয় আমিনুল ইসলাম পাইকার নামে এক ব্যক্তিকে। তবে সময়ের সাথে বনখেকোদের কারণে প্রায় নিশ্চিহ্নর পথে এখন সেই সফল বাগান। তবে কালের স্বাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখাগেছে কয়েকটি শতবর্ষী গাছ। ফিরে দেখা ২০১১ সাল।

হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন মোজাহেদুল হক সোহাগ। এর পর থেকে শুরু হয় তার স্বেচ্ছাচারিতা ও জমি দখলের মহোৎসব। হাট চান্দিনার স্থান দখলের জন্য ভাদুরী বাজার রোডের পশ্চিম পাশে বনভূমির স্থানে বসান হাট। আর হাট চান্দির নির্ধারিত স্থান দখলের পর সেখানে ব্যক্তিগত বহুতল ভবন নির্মাণ করে সাবেক এই চেয়ারম্যান। মূলত মোজাহেদুল ইসলাম সোহাগ চেয়ারম্যান হওয়ার পর পরই বনবিভাগের যায়গা দখলের নিমিত্তে কাঁচা বাজারের দোকানপাট বনবিভাগের জমিতে নিয়ে যান। শুুধুুতাই নয়, হাট চান্দিনার স্থানে গণশৌচাগার করার কথা থাকলেও মানা হয়নি এর কিছুই। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ক্ষমতার বলে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এলজি এসপির অর্থায়নে ১লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বনভূমির জমিতেই বানানো হয়েছে দুইটি স্যানিটারী টয়লেট, তিনটি প্র¯্রাব খানা, পানি সাপ্লাইয়ের জন্য একটি মটার এবং একটি পানির ট্যাংক। বনভূমির জমিতে হাট বসানোর পর থেকে শুরু হয় বনের গাছ কাটার প্রতিযোগীতা। একদিকে, রাতের আধারে গাছ কেটে তা আত্মসাত অন্যদিকে, গাছ কাটার পর সেই খালি স্থানে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দোকানের জন্য পজেশন বিক্রির করতে শুরু করে সুচতুর সোহাগ চেয়ারম্যান। এর লোকজন মাফিজুল, আমিনুল, শফিউল, ডা. জিয়া ও নুরুননবী। পূর্বে থেকে কালের বিবর্তণে বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকায় বনভূমি দখলের পর তৈরী করা হয়েছিলো স্থাপনা।

দেরিতে হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এসব অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে, সম্প্রতি আশংকাজনক হারে প্রতিযোগীতামূলক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে দখলদারদের দখলের কার্যক্রম। শুরু হয়েছে দখলের মহোৎসব। এমন ঘটনা ঘটেছে মধ্যপাড়া বীটের আওতায় ভাদুরী বাজার সংলগ্ন বনভূমিতে। বনভূমির জমি দখল ও গাছ আত্মসাতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। হাট চান্দিনার নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে বনভূমির জমিতে হাট বসানো, বনভূমির জমিতে লাগানো সফল বাগানের অস্থিত্ব বিলীন এবং সাবেক ইউপি কার্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ব্যক্তিগত বহুতল ভবন নির্মানের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহেদুুল ইসলাম সোহাগ কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।

বনভূমির জমিতে কাঁচা বাজার স্থাপনের বিষয়ে সে সময়ের রেঞ্জ কর্মকর্তার কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি । ইতিপূর্বে যিনি ছিলেন তিনি বিষয়টি ভাল জানেন। তবে, আমি যোগদানের পর থেকেই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান একাধিকবার পরিচালনা করেছি। আগামীতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই সাথে লোকবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এ কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলের অভাবে অভিযান পরিচালনা ব্যহত হয়ে থাকে। নতুন করে যারা বন বিভাগের যায়গা দখল করে দোকান পাট বসানোর চেষ্টা করছে আমি তা প্রতিহত করছি। কিন্তু ১৯৮৫/৮৬ সালের জার্নাল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এই মুহুর্তে দেওয়া সম্ভব না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :