বরগুনায় আউশ বীজতলা ফেটে চৌচির

মো: আসাদুজ্জামান, বরগুনা

বরগুনা সহ দেশের দক্ষিনাঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় তৈরী আউশ বীজতলা ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিকর উপর নির্ভরশীল কৃষকরা প্রতিবছরের মত এ বছরও আউশের হাইব্রিড,উফসি,ও স্থানীয় জাতের বীজতলা তৈরী করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলায় চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩হাজার, ৭শ ৩৬ হেক্টর জমিতে আউশ বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। একটানা ৭-৮ মাস যাবৎ কোন বৃষ্টির দেখা নাই। বৃষ্টির উপর বেশী ভরসা করেই বীজতলা তৈরী হয়ে থাকে। রোদের তীব্র প্রখরতায় আউশ বীজ ফেটে চৌচির হয়ে যাওযায় কৃষকরা চরম দূশ্চিন্তায় পড়েছে।বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আগামী এক সপ্তাহের মধ্য বৃষ্টি না হলে বীজতলা থাকবেনা। খাল-জলাশয় শুকিয়ে পানি শূন্য হয়ে গেছে। নদীর পানি লবণাক্ত হওয়ায় বীজ তলায় নদীর পানিও ব্যাবহার করা যাচ্ছে না।সরেজমিনে কৃষকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, শুধু আউশ বীজতলা নয় বৃষ্টি না হওয়ায় অন্যান্য ফসল যেমন,হলুদ,মরিচ,পাঠ,শাকসবজি ক্ষেতও শুকিয়ে যাচ্ছে।

নদী থেকে পানি এনে সেচ দেবার ব্যাবসাও বর্তমানে নেই লবণাক্ততার কারনে। বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী গ্রামের কৃষক নুরুল আলম বলেন,আমি ২০ শতাংশ জমিতে আউশ বীজতলা করেছি,খড়ার কারনে লেদা পোকা এসেছে বীজে,নদী থেকে যে পানি আসছে তা লবন পানি। বৃষ্টি না হলে বীজতলা রক্ষা করা যাবেননা। ইতোমধ্যে অনেকের বীজতলা পুড়েগেছে। বরগুনার চালিতাতলী গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন,আমি ১২ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছি,খড়ায় খাল শুকিয়ে গেছে। একটি মেশিন এনে পুকুরের পানি দিয়ে বীজতলায় সেচ দিচ্ছি।কৃষক মোস্তাফা বলেন,সকলের পক্ষে মেশিন দিয়ে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। বৃষ্টি না হলে অল্প দিনের মধ্যই বীজতলা পুড়ে যাবে। বরগুনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এস,এম,বদরুল আলম বলেন, বৃষ্টি না হলে আউশ বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে উঠা অসম্ভব হবে। কেউ কেউ পুকুরের পানি বীজতলায় ব্যাবহার করলেও তাদের সংখ্যা কম। সাধারন এই মৌসুমে বৃষ্টির উপর নির্ভর করেই আউশ বীজতলা তৈরী করে কৃষক। সঠিক সময় বীজ রোপন করতে না পারলে আউশ উৎপাদনও ব্যাহত হবার আশংকা করছেন তিনি।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :