রবিউল ইসলাম, বরিশাল:
বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হাফ ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দুই দিনে সহিংসতায় রূপ নেয়। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক দ্রæত সংঘর্ষে পরিণত হয় এবং ১৬ নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত পুরো শহরে পরিবহন চলাচল ব্যাহত হয়ে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। দুই পক্ষেরই অন্তত কয়েক ডজন আহত, অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর, একটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং কাউন্টার ভাঙচুর–লুটপাটের অভিযোগে শহরজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় মুলাদী থেকে আসা একটি বাসে এক শিক্ষার্থী হাফ ভাড়া দাবি করলে। শ্রমিকদের আপত্তির জেরে বাস থামানো হয় এবং কথা-কাটাকাটি টার্মিনালে গিয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ছাত্রদের দাবি, শ্রমিকরা তাদের সহপাঠীকে মারধর করে। শ্রমিকদের পাল্টা অভিযোগ-শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে এসে বাস ও কাউন্টারে হামলা চালিয়েছে। এ সময় কয়েকশ শিক্ষার্থী টার্মিনালের ভেতর ঢুকে একাধিক বাসে ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভাঙচুরের পাশাপাশি রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিবহন মালিক–শ্রমিকদের দাবি, অন্তত পঞ্চাশের মতো বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। কিছু সমিতি নেতা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সুযোগে দুষ্কৃতকারীরা কয়েকটি কাউন্টার থেকে অর্থ এবং মালামাল লুট করেছে। এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছে-অগ্নিসংযোগ বা অতিরিক্ত ভাঙচুরে তারা জড়িত নয়; বাইরে থেকে সুযোগসন্ধানী লোকজন এ কাজ করেছে।
রাতে পুলিশ ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে টার্মিনাল এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আনুমানিক ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত-তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। #
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ