বাগেরহাটে সুদখোরদের চাপে প্রাইমারী স্কুল শিক্ষিকার আত্মহত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সুদখোরদের চাপ সইতে না পেরে হাসি কনা বিশ্বাস (৩৩) নামের একজন প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে ওই স্কুল শিক্ষিকার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আগেরদিন সোমবার বিকেলে উপজেলার খড়মখালী গ্রামে বাড়ির বসতঘরের আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে সে মারা যায়। খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে। হাসি কনা বিশ্বাস উপজেলার ৯৭ নং দক্ষিণ শিবপুর মধ্য পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তার স্বামী যুগল কান্তি ডাকুয়া স্থানিয় আজিজুল হক কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার পর থেকে চিহ্নিত সুদ ব্যবসায়ি প্রতিষ্টান থ্রি স্টার এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে।

আত্মহত্যাকারি শিক্ষিকার স্বামী যুগল কান্তি ডাকুয়া মঙ্গলবার দুপুরে জানান, একটু জমি ক্রয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে তারা থ্রী ষ্টার এনজিওসহ স্থানীয় কিছু লোকের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নেয়। এবং নিয়মিত তাদের মাসিক সুদ পরিশোধ করে আসছিল। সম্প্রতি টাকা পরিশোধ করতে সমস্যা হওয়ায় স্থানীয় থ্রি স্টার এনজিও কৌশলে তাদের বসতভিটা থেকে ২৬ শতক জমি লিখে নেয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে অন্যসুদখোররা পাওনা টাকার জন্য চাপ দেয়। এক পর্যায়ে গত রবিবার রতœা মন্ডল এবং বিকাশ বালা নামের স্বামী- স্ত্রী তাদের পাওনা টাকার জন্য রাস্তার উপর আমাকে আটক করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেয়। এক পর্যায়ে রতœা মন্ডল বলে, “টাকা দিতে না পারলে তোর বউকে দে” এমন কথার প্রতিবাদ করতে গেলে বিকাশ বালা তাকে জুতোপেটা করে। সোমবার সকালে রবিন সরকার নামের অপর একজন পাওনা টাকার জন্য তাদের বাড়িতে এসে বকাঝকা করে যায়।

অনুপ বসু নামের একজন বিকেলে তার লোকজন নিয়ে বাড়িতে আসে। তখন সে অনুপ বসুকে ডেকে ঘরের বারান্দায় বসে টাকার বিষয়ে কথাবার্তা বলে চলে যায়। এরপরই স্বামী যুগল কান্তি ঘরে প্রবেশ করে পেছনের বারান্দায় আড়ার সাথে তার স্ত্রী হাসি কনাকে ওড়না পেচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্থানীয়রা জানান, চিতলমারী উপজেলায় প্রভাবশালিরা মানুষের বিপদে চড়া সুদে টাকা ধার দেয়। এদের কথাবার্তা একটুও ভালোনা। এদের চাপে এ উপজেলা থেকে প্রায় ১০/১২ টি পরিবার ভারত চলে গেছেন। আত্মহত্যা করেছে আরো ৪/৫ জন। অনৈতিক অর্থের বিনিময়ে এরা আইনপ্রয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রনে রাখে বলে সুদ ব্যবসায়িরা বেপরোয়ভাবে চলে। করোনা মহামারির সময়ও তারা বেপরোয়া। হাসি কনা ম্যাডামকে সেদিন বিকাশ বালা আর রতœা মন্ডল যা বলেছে তা মুখে আনা যায় না।

আর একটা এনজিও তো টাকার চাপদিয়ে তাদের বাড়িঘর সব লিখে নিছে। চিতলমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকেলে ইব্রাহিম ফকির নামের আমাদের একজন প্রধান শিক্ষক ফোন করে জানান হাসিকনা বিশ্বাস গলায় রশি নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার মৃত্যু নিয়ে কোন কারসাজি থাকলে আমরা তার যথাযত বিচার দাবী করছি। চিতলমারী থানার এসআই নিকুঞ্জ রায় বলেন, হাসি কনা বিশ্বাসের মৃতদেহের সুরতহাল করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাসি কনা বিশ্বাস উপজেলার চিলুনী গ্রামের খগেন বিশ্বাসের মেয়ে। ১৭ বছর আগে বাগেরহাট কাঠিগোমতি গ্রামের জিতেন ডাকুয়ার ছেলে যুগল কান্তি ডাকুয়ার সাথে বিবাহ হয়। চাকুরির সুবাদে এরা চিতলমারী উপজেলার খড়মখালী গ্রামে জমি কিনে নতুন বসতি গড়ে তোলেন। এ ঘটনায় অভিযোগ হলে তদন্তপুর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :