বারাহীপুরে স্বামী-স্ত্রীকে মামলা দিয়ে হয়রানি ও জমি দখলের পায়তারা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

ফেনী প্রতিনিধি:

সালমা খানম থাকেন স্বামীর সাথে যুক্তরাজ্যে। স্বামী ফেনী পৌরসভার ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের বারাহীপুর রিয়াজউদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির মৃত মোহাম্মদ ফয়েজ উল­াহর ছেলে মহি উদ্দিন। মহি উদ্দিন উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত বারাহীপুর মৌজার সাবেক ৪২৬ ও বিএস ৬৭০৮ দাগে ১০ শতক জমি স্ত্রীকে দেনমোহর পরিশোধ করতে ২০১১ সালে রেজিস্ট্রি করে দেন।

সালমা খানম সেই জায়গাটিতে গৃহ নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। স¤প্রতি উত্তর শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে খন্দকার মোঃ বেলাল হোসেন উক্ত দাগে ০.৮৭ শতক জমি পাবে দাবি করে দখলের চেষ্টা চালায়। এছাড়াও বেলাল উক্ত জায়গাটি তার দাবি করে মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ১৪৫ দ্বারা মামলা ( মিস মামলা -৫৭০) দায়ের করে। উক্ত মামলায় সে বারাহীপুর এলাকার সুজা মিয়া ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক থেকে উক্ত দাগে দশমিক ২৫ শতক জমি এয়জবদল করেছে বলে উলে­খ করে। উক্ত মামলায় আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করেন পৌর সরকারী ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ইয়াসিন। তদন্ত কালে বেলাল হোসেন নিজেই মামলাটি প্রত্যাহার করে নিবেন ও দেওয়ানি করবেন বলে কোন কাগজও দেখাননি। যা তদন্ত প্রতিবেদনে উলে­খ করা হয়। এছাড়াও তার প্রেক্ষিতে ফেনী সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মো: জসিম উদ্দিন আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। এরপর পরপরই বেলাল হোসেন ফেনীর সহকারী জজ আদালতে সালমা আক্তার ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে খাস দখলের ডিক্রির একটি আবেদন করেন। ১৪৫ ধারায় দায়ের করা মামলায় দশমিক ২৫ শতক জায়গা দাবি করলেও এই মামলাটিতে তিনি দশমিক ৮৭ শতক জায়গা দাবি করেন। বেলালে দখলের চেষ্টার প্রেক্ষিতে সালমা খানমের পক্ষে তার জায়গার তত্ত¡াবধায়ক খোকন বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

এছাড়াও এর আগে বেলালের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দেন মহি উদ্দিন। সেই অভিযোগটি তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা উপ-পরিদর্শক একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে বলা হয় সালমা খানম বারাহীপুর মৌজার বিএস ৬০৭৭ দাগে ১০ শতক জমির মালিক রয়েছেন এবং সেখানে প্রায় ১৫ বছরের পুরাতন ঘরবাড়ি রয়েছে। একই প্রতিবেদন দেয়া হয় সালমা আক্তারের করা ১৪৫ ধারা মামলায়ও।

সালমা খানম এক ভিডিও বার্তায় জানান, বেলাল একজন ভূমিদস্যু। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থানে প্রতারণার মাধ্যমে ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানা একটি মামলাও রয়েছে। সে আমার স্বামীর দেন মোহর বাবদ দেয়া জমির উপর নজর পড়েছে। আমাদের মামলা দিয়ে সামজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। আমি তার বিচার দাবি করছি। প্রবাসী সালমা খানমের স্বামী মহি উদ্দিনের অভিযোগ, বেলাল শুধু আমার স্ত্রীর জমি দখলের চেষ্ঠা ও আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে তা নয়। সে মায়ের মায়ের ওসিয়তের সূত্র ধরে আমার তিন বোন শাহেনা আক্তার ফেরদৌস আরা বেগম, মাহবুবা বেগম ও তার বাবা দশ শতক জমি ফাতেমা একাডেমিকে দান করেন। কিন্তু সেই জমিটি খন্দকার বেলাল মাদ্রাসা কমিটিতে থাকার সুবাদে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে অনৈতিক ভাবে বিক্রি করে দেন। অথচ দলিলে জমিটি কেবল মাদ্রাসা করার জন্য দেয়া হলেও বর্তমানে জায়গাটিতে উত্তরা কমিউনিটি সেন্টার অবস্থিত।

অপরদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বেলাল জানান, আমি আবু বক্কর সিদ্দিক থেকে ৮ সমস্ত ৯ ভাগের আট শতক জমি এয়জ বদল করি। এর মধ্যে দশমিক ৮৭ শতক জমি ৬০৭৭ দাগে। মহি উদ্দিনের কাছে ওই দাগে ১০ শতকের বেশি না থাকলে আমার কোন দাবী নেই। আমি আদালতে মামলা করেছি সেখানেই যা হবার হবে। এছাড়াও তিনি ফাতেমা একাডেমির জমি বিক্রির বিষয়ে জানান, আমি কমিটির ক্যাশিয়ার ছিলাম, মাদ্রাসার রাস্তার কারনে জমিটি বিক্রি করে অন্যত্র মাদাসার নামে জমি কেনা হয়েছে। সেখানে ৬তলা ফাউন্ডেশানে ৪ তলা বিল্ডিং রয়েছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ