বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয়ের একটি কক্ষ দখল অভিযোগ কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সচিবকে চেয়ারম্যানের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার

 

সরকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের কমিটি বিলুপ্ত করে সংগঠনটি পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করলেও রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয়ের একটি কক্ষ জবরদখল করে নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহযোগী সংগঠন পরিচয়ে গজিয়ে ওঠা ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড’ নামে প্যাডসর্বস্ব একটি সংগঠন। বিআইডব্লিউটিএ ভবনের চতুর্থ তলার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষটি সংস্থার বন্দর ও পরিবহন বিভাগের কর্মচারি নাজমুল হুদা এককভাবে দখল করে রেখেছেন। যদিও তিনি রাজনৈতিকভাবে বিএনপি-জামায়াতের কট্টর সমর্থক। যা নিকট-অতীতে তার নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেয়া বিভিন্ন ধরনের পোস্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে বহুবছর যাবৎ কক্ষটি ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ-বিআইডব্লিউটিএ’রপ্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কার্যালয়। কক্ষ জবরদখল করার ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গতকাল বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।
ইতোমধ্যে কক্ষ জরদখল করে নেয়া নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান বরাবর গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) লিখিত অভিযোগ করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়নগঞ্জ নদী বন্দরের শুল্ক আদায়কারী মকসুদুর রহমান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন বিআইডবিøউটিএ’র চেয়ারম্যান।
বিআইডব্লিউটিএ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বিএনপি-জামায়াতের কট্টর সমর্থক নাজমুল হুদা ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে সরকারবিরোধী অনেক পোস্ট দিলেও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব পরিচয়ে এখন ভোল পাল্টেছেন।

তবে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তার সংগঠন কোনো কর্মসূচি পালন করেন না। এমনকি ওইদিন বিআইডব্লিউটিএর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতেও স্ব-শরীরে অংশ নেন না তিনি। বিআইডবিøউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বলেন, বহুবছর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ-বিআইডবিøউটিএ প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের কার্যালয়টি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নামে দখলে নেওয়ার ক্ষেত্রে নাজমুল হুদাকে সরাসরি সহযোগীতা করেন সেখানকার সিবিএ সভাপতি সভাপতি আবুল হোসেন। এই আবুল হোসেন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও পেশিশক্তির জোরে সিবিএর ১নং যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জীব দাশকে বহিস্কার করে নাজমুল হুদাকে ১নং যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত করেন। অথচ ট্রেড ইউনিয়ন নীতিমালায় এভাবে কাউকে সিবিএ’র পদ দেয়ার বিধান নেই।

তবে এসব কাজের পেছনে আবুল হোসেন ও নাজমুল হুদার মধ্যে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারি জানান।
তারা আরো বলেন, নাজমুল হুদা বন্দর ও পরিবহন বিভাগের কর্মচারি হলেও বিআইডব্লিউটিএ ভবনের পঞ্চম তলায় নিজের দপ্তরে কখনও বসেন না। সারাক্ষণ থাকেন চতুর্থ তলায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নামে দখল করা কক্ষে। এখানে বসেই তিনি এই সংগঠন ও সিবিএর পদ-পদবি ব্যবহার করে সারা দেশের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। কর্মচারিদের বদলি এবং পছন্দের ব্যক্তিদের নামে সংস্থার বিভিন্ন ঘাট ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা করে প্রতিবছর অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা আদায় করে থাকেন।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ও বিআইডব্লিউটিএ ’র বিভিন্ন শাখা কমিটি গঠনের নামে প্রতিটি কমিটির নেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারী ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব নাজমুল হুদার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি কোন অফিসের রুম জবরদখল করে রাখা যায় কিনা এ বিচার আপনাদের কাছে, এ রুমটি প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে বরাদ্ধ ছিলো তারা এ অফিসে না থাকায় বিআইডব্লিউটিএ ক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নামে বরাদ্ধ দিয়েছে তার প্রমানও আমাদের কাছ আছে। এছাড়া জিয়া অথবা বিএনপির কোন কর্মকান্ডে ফেইসবুকে সক্রিয় থাকলে তা ফেইসবুক চেক করলেই তো প্রমান হয়ে যাবে, আপনার ফেইসবুক আইডি নিয়ে চেক করেন।

আপনার মতামত লিখুন :