ভেজালমুক্ত সরিষার তেলের জন্য মজুমদারহাটে কারখানা গড়লেন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাবাসীকে ভেজালমুক্ত তেল খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে মজুমদারহাটে প্রথম সরিষার তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করলেন ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম। গাইবান্ধা জেলা চাহিদা মেটানোর জন্য প্রায় সব সরিষার তেল আসে বাহিরের জেলা থেকে। এরমধ্যে নানা ব্র্যান্ডের তেল রয়েছে। অবশেষে প্রথম বারের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগে রবিউল ইসলাম কারখানাটি স্থাপন করেন। তার সরিষার তেল উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। অন্য সকল কারখানা থাকতে সরিষার তেল কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা মাথায় এলো কী করে? এ প্রশ্ন করলে রবিউল ইসলাম জানান, একবার দিনাজপুর জেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছিলাম। সেখানে গিয়ে একাধিক কাচ্চি ঘানি দেখেন। যেখানে সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং মানুষ কারখানা থেকেই ভেজালমুক্ত তেল নিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি মজুমদার হাটে সল্প পরিসরে গুটি কয়েক ঘানি নিয়ে কারখানা শুরু করেন। তিনি আরও জানান, এই কারখানাটি স্থাপন করতে ২০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তবে সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দফতর থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়াও কারখানাটি চালানোর জন্য যে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় তাতেও সরকারি তরফে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই কারখানাটির দৈনিক ৪শ’ লিটার সরিষার তেল উৎপাদন করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি গড়ে দৈনিক ১শ’ লিটার তেল উৎপাদন করছেন। তবে চাহিদা বেশি থাকলে উৎপাদন কিছুটা বেশি করে থাকেন। বর্তমানে এক শিফটে কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে সরিষার তেল। এটি পরিচালনা করার জন্য মোট তিনজন কারিগরের প্রয়োজন হয়। সুন্দরগঞ্জের খুব বেশি পরিমাণে সরিষা উৎপাদন হয় না, কারখানার প্রয়োজনীয় সরিষা কোথা থেকে সংগ্রহ করছেন? রবিউল ইসলাম জানান, গাইবান্ধা জেলায় প্রচুর পরিমাণে সরিষা উৎপাদন হয়ে থাকে। সেই থেকেই প্রয়োজনীয় সরিষা আমদানি করে থাকেন। উৎপাদিত এই তেলের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। উৎপাদিত তেল প্রতিদিনই শেষ হয়ে যায়। মানুষ নিজেরাই এসে কারখানা থেকে তেল নিয়ে যায়। কারণ এখানে তাদের চোখের সামনেই সরিষা থেকে তেল উৎপাদিত হয়। এই তেলে কোন ভেজাল থাকে না ফলে মানুষ খুব উৎসাহের সঙ্গে নিয়ে যান। রবিউল ইসলাম আরও জানান, বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ লিটার সরিষার তেলের দাম যেখানে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা সেখানে তিনি মাত্র ১৪০ টাকা করে প্রতি লিটার তেল বিক্রি করছেন। তিনি তার কারখায় উৎপাদিত তেলে কোন ভেজাল মেশান না। তাছাড়া বড় বড় ব্রান্ডের তেলের মতো তিনিও দুই দফায় ফিল্টার করে তেল বের করছেন। উৎপাদিত তেল বিক্রি করে যে লাভ হয় তা দিয়ে চলে তার সংসার। তবে মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘদিন তেল উৎপাদন বন্ধ থাকলে তিনি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে তিনি কারখানাটি আগের মত আবারও শুরু করতে পারবেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :