মঠবাড়িয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণ, নৈশপ্রহরীর পাহারায় ধর্ষণ করে দপ্তরি

মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, বরিশাল ও মিজানুর রহমান , মঠবাড়িয়া
বিকলাঙ্গ স্বামী। প্রতিবেশিদের সহানুভূতিতে চলে সংসার। এর মধ্যে রয়েছে দুই শিশু সন্তান। সংসারের হাল ধরতে নিজেও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন গৃহবধূ। তবুও সংসারে ছিলো সুখ। ছিলো প্রশান্তি। কিন্তু পাশের স্কুলের দপ্তরি আর মাদ্রাসার নৈশপ্রহরীর লোলুপ দৃষ্টিতে গৃহবধূর পরিবারে হঠাৎ অশান্তির ঘনঘটা। নিজের অজান্তেই কলঙ্কিত তিনি। সালাম গাজী নামে স্কুল দপ্তরির যৌন তাড়নার শিকার। বিচার চাইতে গিয়েও ব্যর্থ হন বার বার।

আইনের আশ্রয় নিয়েও প্রভাবশালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ইশারায় থানা পুলিশ ছিলো দর্শকের ভূমিকায়। অবশেষে র‌্যাবের হস্তক্ষেপে গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত দুই ধর্ষক। স্বস্তিতে এলাকাবাসি। আত্মতৃপ্তিতে ভূক্তভোগী গৃহবধূ। এখন শুধু ধর্ষকের শাস্তির অপেক্ষা। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঘটনা এটি। ভূক্তভোগী গৃহবধূর সাথে আলাপ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভূক্তভোগীর স্বামী একজন বিকলাঙ্গ মানুষ।

গ্রামের বিত্তবানদের দয়ায় চলে তার সংসার। কাচা ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তিনি। দু’টি শিশু সন্তানও রয়েছে তাদের সংসারে। তবুও ওই গৃহবধূর পিছু ছাড়েনি একই এলাকার দুই চরিত্রহীন লম্পট। এদের একজন স্থানীয় মরহুম আক্তার গাজীর পুত্র এবং দাউদখালী নূরজাহান মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি সালাম গাজী। অপরজন মান্নান কাজীর পুত্র দাউদখালী (ডিগ্রী) ফাজিল মাদরাসার নাইটগার্ড সাইফুদ্দিন কাজী। তারা উভয়ই ওই গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

বিনিময়ে ভালো থাকা-খাওয়ার আশ্বাসও দেয় তারা। কিন্তু এ প্রস্তাবে কখনোই সায় ছিলোনা গৃহবধূর। এতে ক্ষিপ্ত হয় লম্পট চক্র। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ মে রাতে ভূক্তভোগীর ঘরে কৌশলে প্রবেশ করে সালাম গাজী আর সাইফুদ্দিন কাজী। এরপর প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই শিশুকে জিম্মি করে। গৃহবধূকে তুলে নিয়ে যায় পাশের বারান্দায়। সেখানে সালাম গাজী মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে গৃহবধূকে। আর পাহারায় থাকে সাইফুদ্দিন কাজী। ভূক্তভোগীর ডাকচিৎকারে এগিয়ে আসে প্রতিবেশিরা। উপায়ন্তর না দেখে পালিয়ে যায় দুই লম্পট।

বিষয়টি তখন স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত গড়ায়। ভূক্তভোগী জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের ইশারায় বিষয়টি চাপা পড়ে তখন। পরে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে ধর্ষকরা। এরই মধ্যে গত ১ জুন ওই লম্পটরা একইভাবে আবারো কৌশলে ভূক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে। তারা গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে বারন্দায় নিয়ে ধর্ষণ করে। যাবার সময় সালাম গাজী ও সাইফুদ্দিন কাজী গৃহবধূ ও তার স্বামীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। গত ৭ জুন ওই নির্যাতিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে মাঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। অব্যাহত হুমকির পরেও মামলা তুলে না নেয়ায় গত ২২ জুন গভীর রাতে ভূক্তভোগির বসত ঘরের পাশে রান্নাঘরে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি রহস্যজনক কারনে। এরই মধ্যে গত শুক্রবার নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক সালাম গাজী (৪৫) ও মো. সাইফুদ্দিন কাজী (৩১) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকষ দল।

এদিকে গতকাল শনিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.জ.ম মাসুদুজ্জামান আমাদের কন্ঠকে বলেন, ঘটনার সাথে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তদন্তে প্রমান মিলেছে। ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে গতকালই আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :