মন্তব্য প্রতিবেদন টেকসই নীতিমালা ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশকে স্থির অবস্থানে দাঁড় করানো কঠিন

এইচ এম জালাল আহমেদ

পরিস্কার ভাষায় বলা যায় যেভাবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে, তাকে পুরোসুস্থ ও স্থির কাঠামো বলা যায় না। সাদা চোখে দেখলে অনেক অনিয়ম চোখে পড়বে। বিভাগীয় পদোন্নতি থেকে শুরু করে সরাসরি নিয়োগে আগোছালো পরিস্থিতির কথাই অনেকে বলছেন। তাই বলা হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যে অবস্থানে রয়েছে সেখান থেকে নন্দিত করে তোলা বেশী একটা কঠিন নয়। ব্রিটিশ বিধি বিধানের সংস্কার করে সময় উপযোগী করে তুললে টেকসই একটি বাহিনীতে পুলিশ বাহিনীকে স্থির করা সম্ভব। নিয়োগ বিধির সাথে প্রশিক্ষণ বিধির বিধানে আরো স্বচ্ছতা ও গীতিশীলতা ফিরানো জরুরি। পূর্বের লেখায় যে কথা বলা হয়েছে সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে নজর দিতে পারেন। দিলে তারাও তেমনটি প্রয়োজন বোধ করবেন বলে মনে হচ্ছে। দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পরিস্কারভাবে বলছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করে সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। যতো বেশী পদে নিয়োগ হবে ততোবেশী বিভাগীয় পদোন্নতিতে জটিলতা সৃষ্টি হবার সুযোগ সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এ কারনে বলা হয়েছে পুলিশ বাহিনীতে যতোটাই ব্যাটালিয়ন থাকুক না কেন কনস্টেবল একই ধারার হওয়া উচিৎ।

এ পে থেকে পদোন্নতি লাভ করে ভিন্ন ধারার সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) পদে পদোন্নতি লাভ করবে। এ ক্ষেত্রে বিধির াবধানে এ কথা উল্লেখ করা যেতেই পারে যে নিয়োগের পর মুল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ভাবে বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য তিন বছর একই অবস্থানে থাকবে। এখানে প্রশিক্ষণের মেধাভিত্তিতে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট বা ব্যাটালিয়নে পদায়ন হবে। এখানে আরো পরিস্কার করে বলা যায়, পুলিশ বাহিনী যদি ইচ্ছে করে তদন্ত ইউনিট বা নিরস্ত্র শাখা কে পুলিশ বাহিনীল এক নম্বর ইউনিট, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ইউনিট-২, এপিবিএন ইউনিট -৩, এসপিবিএন ইউনিট -৪, বিশেষ পুলিশ শাখা এসপি ইউনিট-৫, অপরাধ তদন্ত শাখা সিআইডি ইউনিট-৬, নৌ পুলিশ ইউনিট -৭, বিশেষ নিয়ন্ত্রণ শাখা ইউনিট -৮ (এসএসএফ ও রায়ওট পুলিশ ইউনিট) এবং অন্যান্য ইউনিট সেভাবেই গুরুত্ব পাবে। চাকরির তিন বছরপর যে ইউনিটে পদায়ন পাবার যোগ্য হবে সে ইউনিটের বিধি বিধানের আলোকে আরো তিন বছর চাকরি করার পর নিজ নিজ ইউনিটের পরবর্তী পদে পদোন্নতির পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পােেব।

পরবর্তী পদে অর্থাৎ সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) পদে পদোন্নতি পাবার পর কমপক্ষে ছয় বছর চাকরি করার পর পরবর্তী পদ উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) পদে বিভাগীয় পদোন্নতি লাভ করার লক্ষ্যে পরীক্ষায় অংশ করতে পারবে। এ পদো কমপক্ষে দশ বছর চাকরি করার পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদ পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা র্অজন করবে। অর্থাৎ নিয়োগ থেকে ১৭ বছর পর যদি পুলিশ পরিদর্শক পদে পরীক্ষায় অংশ নেন তাহলে পরীক্ষা ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাকরির বিশ বছর পর পুলিশ পরিদর্শক পদে আসিন হতে পারবে। তাতে মেধাভিত্তিক পরিপক্ষতা সৃষ্টি করা সহজ হবে। তাদের মধ্যে বাস্তব বিষয়গুলোর গুরুত্ব উপলদ্ধি ও ধারনায় নেয়া সহজ হবে। অপর দিকে যারা পুলিশ পরির্দশক পদে বিসিএস ক্যাডারভূক্ত সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের ক্ষেত্রেও বিধি বিধানে ব্রিটিশ বিধান সংশোধন করে নতুন বিধি সংযুক্ত করে নতুন বিধান তৈরি করে টেকসই একটি নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। সব ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা সৃষ্টি করতে পারলে দুরদর্শীতা বাড়ানো সহজ হবে। যোগ্যতার ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে পৌছানো সম্ভব। বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে টেকসই কাঠামোতে পুলিশ বাহিনী পরিচালনা করতে পারলে অভশ্যই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী শুধু গর্বিতই নয় নন্দিত করে তোলা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন :