মন্তব্য প্রতিবেদন তিনদিনের লকডাউন সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন

এইচ এম জালাল আহমেদ

দেশব্যাপি সাতদিনে লকডাউনের তৃতীয় দিন পালিত হয়েছে। সারা দেশের চিত্র তুলে ধরলে বলা যায় শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। গণপরিবহ অধিকাংশ বন্ধ ও মসজিদে নামাজে আংশিক না মানা ছাড়া কোথাও লকডাউনের প্রভাব পড়েনি চোখে। কয়েকদিন পূর্ব থেকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রভাব কয়েকগুণে বেড়েছে। আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। প্রাণহানি প্রতিদিনের হিসেব যেন শঙ্কা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। রাষ্ট্র নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে আক্রান্ত না হয় সেদিকে নজর রেখে চেষ্টা করছে নিয়ন্ত্রণের করতে। তাই দেশের সার্ভিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ঝুকি থাকার পরও লকডাউনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ ও মুসলমানের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় ফজিলতের মাস পবিত্র মাহে রমজান এর প্রথম রোজা শুরু হয়েছে বুধবার। এ দিন থেকেই সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তিনদিনের লকডাইন নিয়ে হিসেব নিকেশ করলে যে চিত্রটি ভেসে ওঠছে তাতে ফলদায়ক বলে বিবেচ্য নয়।
সরকারের সপ্তাব্যপি ঘোষিত লকডাউন কোথায় এবং কিভাবে পালিত হবে তার কোন যথার্থতা প্রকাশ পায়নি। যদিও পুলিশ বাহিনী প্রধান আইজিপি ঘোষনা করেছিলেন মুভমেন্টপাস ছাড়া কেউ বের হতে পারবেন না। তিনি একদিন পর বলেছেন না সাংবাদিকসহ বেশ কিছু পেশার মানুষের কোন পাস প্রয়োজন হবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কঠোর লকডাউন পালন করতে হবে। কিন্তু গত তিন দিনের পালিত লকডাউন কঠোর বা মুভমেন্টপাস প্রয়োজন তেমনটি কারো চোখে পড়ছে বলে মনে হয়না। তবে একেবাওে যে লকডাউন পালিত হয়নি তা কিন্তু কেউ বলতে পারবেন বলেও মনে হয়না। নৌ ও স্থল পথে সাধারণ মানুষের চলাচলের বাহন লঞ্চ বা নৌযান ও গণপরিবহন চলেনি। চলেছে প্রাইভেট কার মাইক্রবাস ও নানা কাজে ব্যহৃত ছোটবড় পরিবহন। মটর সাইকেলও কম চলছেনা। এসব পরিবহন সড়কে চোখে পড়ারমত। পুলিশকেও চেকপোষ্ট নামে তল্লামি পোষ্ট বসিয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে দেখা গেছে।

এসব স্থানে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্ত ও সদস্যদেও নানা বিরম্বনায় পড়তে হয়েছে এবং হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই পুলিশ সম্পর্কে নানা অভিযোগ ওঠছে। এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটা বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাদেও দেয়া বক্তব্য পুরোটাই সত্যি। যদি মুভমেন্টপাশ বা কঠোর লকডাউন কার্যকর হতো তাহলে বোধ হয় পলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদেও ওরক বিরম্বনায় পড়তে হতোনা। যাই হোক ওটা পুলিশের কাজ পুলিশ বুঝবে। আলোচনাটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের বিদ্যমান সমালোচনা নিয়ে। আজকে কেমন চলছে তা বলা যাচ্ছে না। তবে গত তিনদিনের পালিত লকডাউন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার খোরাক যুগিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঘোষিত লকডাউন এর বিধি ও পালিত চরিত্রের মধ্যে ব্যবধান অনেক। দুরত্ব যতটা দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তাতে সাভাবকিভাবে তাদের প্রশ্নটা অস্বীখার করার বা জবাব দেবার ভাষা আমার কাছে নেই। তাদেও প্রশ্ন খন্ডানোর যুক্তিও জানা নেই। সরকারের কাছে রয়েছে কিনা জানা নেই। সরকার ঘোষণা দিলো কঠোর লক ডাউন পালিত হবে। কিন্তু কোথায় কঠোরতা লক্ষ করা যায়নি। হাটবাজার দোকানপাট কলকারখানা পোশাক কারখানা সবই তো খোলা।

সড়কে সকাল থেকে রাত অবধি মানুষের কমতি নেই।
অপরদিকে ঘোষণা বলা হয়েছিল সকাল ৬ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামালের দোকান খোলা থাকবে। বাস্তবে দেশের ১০ শতাংশ দোকাও কি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ করতে পারছে? দেশের গণমাধ্যম তো বলছে ভিন্ন। সবাই বলছে ডিলেঢালা লকডাউন পালিত হচ্ছে দেশব্যাপি। কঠোর ও ডিলেঢালা লকডাউনের সজ্ঞা খুঁজে পাইনি। মিলাতে পারিনি পালতি লকডাউনের প্রকৃত কার্যকারীতা। যদি লোকালয় বা মানুষের সমাগম করোনা প্রভাব বিস্তার লাভ করে। তাহলে খোলা রাখার পদ্ধতিটা কতোটা ইতিবাচক তা বোধহয় বলাবাহুল্য।কয়েকদিনের মধ্যে দেশের বেশ কয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক এর প্রাণহানি ঘটেছে করোনার গ্রাসে। কয়েকদিনে প্রাণহানি এবং আক্রান্তের পরিসংখ্যান হতাশ হবার মত। স্বাস্থ্যবিধি বলছে সামাজিক যোগাযোগে মানে মানুষের সমাগম করোনা প্রভাব বিস্তার ঘটে। যদি তাই হয় তাহলে দল বেধে লকডাউনের প্রচার প্রচারনা চারোনাট কি স্বাস্থ্য বিধির মধ্যে পড়ে না? ডবদ্যমান লকডাউনের চরিত্রটা তিনদিন দেখার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠছে করোনা কি শুধু মসজিদ ও গণপরিবহনে আশ্রয় নিয়েছে। যদি তাই হতো তাহলে ইসলাম ধর্মীয় মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের মানুষ যারা মসজিদে যাননা তাদেও প্রাণহানি ঘটছে কেন।
বাজারের গণজমায়েত যদি করোনা বিস্তার না ঘটায় তাহলে স্বাস্খ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল করছে করোনার প্রভাব বৃদ্ধি পাবে কেন? আরো অনেক প্রশ্ন তুলছে সাধারণ নাগরিকরা।

যার জবাব দেবার যৌক্তিক কোন যুক্তি নেই। রাষ্ট্রের বা সরকারের হাতে রয়েছে নিা জানা নেই। যদি করোনা প্রভাব প্রতিরোধের জন্য আর্থিক ঝুকি মাথায় নিয়েও লকডাউন পালন করতে হয় তাহলে যর্থাথভাবেই পালন করতে হবে। মনে রাষ্ট্র এ ব্যাপারে নজর দিবে। কারন যেভাবে লকডাউন পালিত হচ্ছে সেভাবে সামনের কয়দি পালন করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবার সম্ভবনা উড়িয়ে দেয়া কঠিন। গ্রামগঞ্জে কিভাবে পালিত হচ্ছে তা বলার প্রয়োজন নেই রাজধানী ঢাকার তিন দিনে লকডাউন কোনভাবেই করোনা প্রতিরোধেরর ইতিবাচক তা ভাবার কোন সুয়োগ নেই। এটাকে কঠোর লকডাউন বলা যায়না। এ লকডাউনে রাজধানীতে সাভাবিক সময়েল চেয়ে কিছু কিছু স্থানে অস্বাভাবি মানুষের সমাগম ঘটছে। করোনা ভাইরাস যদি ছোয়াছ রোগ হয়ে থােেক তাহলে মানুষের সমাগম পুরো মানে শতভাগ নেতিবাচক। এভাবে পালিত লকডাউনকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের বলা অনেকটাই মুশকিল। এব্যাপাওে রাষ্ট্র তথা সরকার দৃষ্টি দিবেন বলে সচেতন মহল মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন :