মন্তব্য প্রতিবেদন দুর্নীতির শিরোমনি হলেও দুদকের তালিকায় নেই শামীম

এইচ এম জালাল আহমেদ

দুর্নীতি দমন করবে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বাহিনী দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বেড়ায় দেশব্যাপি। অনেক দুর্নীতিবাজ সনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু সে তালিকায় নেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীদিবাজ চক্রের শিরোমনি শামীম ভূঁইয়া। অবশ্য জানা নেই তার প্রতারক বাহিনীর প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার অপরাধ দুর্নীতির সজ্ঞায় পড়ে কিনা। তবে যতটুকু আইন কানুন প্রকাশ পায় সে অনুযায়ী শুধু ধারনা নয়। প্রতিয়মান হচ্ছে তিনি হচ্ছেন দুর্নীতির শিরোমনি। হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অনেক মানুষকে পথে বসিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ অর্থ ফেরতের জন্য চাপ দিলে বা আইনের আশ্রয় নিলে তাদের বিরুদ্ধে তার প্রতারনার জালে বাধা ছবি দিয়ে পাল্টা আইনি হয়রানির শিকারের ফাঁদপাতেন। কি পরিকল্পিত প্রতারনা তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো কঠিন। তার প্রতারনার ফাঁদ মোটা দাগে দেখা গেলেও আইন ঘোড়ানোর সুযোগ প্রার্থমিকভাবে থাকে। অর্থাৎ সুকৌশলে প্রতারানা করে দীর্ঘদিন বীর দর্পে রাজধানী দাবরিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু কয়েকজন তার সব হুমকি দমকি উপেক্ষা করে আইনের আশ্রয় নিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়েছেন কয়েকবার।

কম বেশী দু’বছরে কয়েক মাস হাজতবাসে থাকলেও অনেকগুলো মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শামীম ভূঁইয়া।
দুর্নীতি ও প্রতারনার শিরোমনি শামীম ভূঁইয়া। জামিনে মুক্তি পেয়েই তার ফাঁদ এ আটকানো ছবি ব্যবহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)র বিভিন্ন থানা দৌড়যাপ শুরু করেন। ইতিমধ্যে একজন পাওনাদারকে তার প্রতারনার বেড়াজালে আটকানো ছবি দেখিয়ে মামলা করেছেন। শুধু তাই নয়, সে মামলায় নাটকীয়ভাবে দায়ের করে গ্রেফতারও করিয়েছেন। সে ব্যক্তি যদিও তিনদিন পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ মামলার রেশ থেকে বেড়িয়ে আসছে স্বঘোষিত সিআইপি শামীম ভূঁইয়ার প্রতারনা ও দুর্নীতিসহ জালিয়াতির মূল রহস্য। আদালতের কাছে ভুক্তভোগী ব্যক্তি জামিনের দাবিদারের পক্ষে যে নথি আদালতে উপাস্থাপন করছেন সে নথির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয়দানকারী শামীম ভূঁইয়ার রহস্যজনক প্রতারনার আশ্রায়ের রহস্য বেরিয়ে আসছে। তিনি প্রতারনার ফাদে অর্থ বা পূঁজি বিনিয়োগকারীদের ফেলতে যেমন সুন্দরী যুবতী ও নারী ব্যবহার করেছেন। ঠিক তার সাথে ব্যবসায় সংযুক্ত হতে উৎসাহ যোগাতে বিশ্ববিদ্যালয়র চলমান কাজের কার্যাদেশ ভূয়া তৈরি করেছেন।

তিনি ব্যবহার করেছেন দেশের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি মুজিব বর্ষ। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত টাইসহ নানা পণ্য তৈরির কার্যাদেশ ব্যবহার করেছেন।
শামীম ভূঁইয়া বয়সে তরুণ হলেও কোনটা ইস্যু বানালে অন্যের অর্থ হাতিয়ে নিতে সহজ হবে সে পথ তৈরি করেছেন সুচারুভাবে। অপরদিকে অর্থবিনিয়োগকারীদের লাভের অংশ ব্যাংকের চেয়ে কয়েকগুণে বেশী রেখেছেন। তার এ দুফাঁদে পা দিয়েছেন প্রায় রাজধানীর অর্ধ্বশত যুক ও তুরুণরা। অল্প সময়ে বেশী লাভের আশায় ঝুকে পড়া অনেক তরুণ বুঝতে পেরে নিজেদের বিনিয়োগের অর্থ ফেরৎ নেয়ার প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু তারা এ অভিনব সুকৌশলী প্রতারকের নানা বেড়াজালে আটকানো বাহিনীর ভয়ে এক পা আইনের দিকে এগিয়ে দু’পা পিছিয়ে যান নিজ ইজ্জত ও সম্মানসহ প্রাণ হারানোর ভয়ে। তার সব হুমকি ও ভয় উপেক্ষ করে বিনিয়োগের অর্থ ফেরৎ পাবার লক্ষে রাজধানীর কয়েক থানায় ঘটনাস্থলমূলে মামলা দায়ের করেছেন ২/৩ যুবক। যদিও তারাও প্রতারনার বেড়াজালঘেষায় থাকায় নানা ভাবে পুলিশি হয়রানীর শিকার হয়েছেন এবং হচ্ছেন।

কথিত সিআইপি শামীম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পরিচালনাকারী একজন আইনজীবী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দালিলিকভাবে অনেক প্রতারনার দলির প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এগুলো সম্মানিত আদালতে দাখিল করেছেন। শামীমের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি থানার মামলার এজাহার বিবরনে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে দালিলিকভাবে।
কথিত স্বঘোষিত সিআইপি শামীম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রতারনার যে পিরিস্তি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে রয়েছে। বিশেষ এক সূত্রে জানা গেছে প্রতিকার পাবার জন্য প্রসংশিত বাহিনী দেশের এ্যালিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি)র বরাবরেও আবেদন করে পুরো নথি জমা দিয়েছেন এক ক্ষতিগ্রস্ত যুবক। সেখানেও তুলে ধরা হয়েছে এ স্বঘোষিত সিআইপি শামীম ভূঁইয়ার প্রতারনার নানা ফিরিস্তি। তবে আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার আদালত প্রতিনিধি কর্তৃক যে দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে তা পর্যালোচনা করলে স্বঘোষিত সিআইপি শামীম ভূঁইয়া শুধু প্রত্যারকই নন। তিনি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বেআইনিভাবে ভিন্ন জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করে আলাদাভাবে দু’টি পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এ দু’টি পাসপোর্ট এর মাধমে একাধিকবার বিভিন্ন রাষ্ট্র ভ্রমন করেছেন বলে পাসপোর্টের ভিষায় প্রমাণ মিলছে। আরো প্রমাণ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়র বিভিন্ন কাজের কার্যাদেশ ভূয়া তৈরি করেছেন।

অবশ্য এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির কথিত এক শিক্ষকের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে। দেশের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ছবি ব্যবহার করে মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী ও মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে টাই বানানোর কার্যাদেশ ভূয়া তৈরি করে মোটা অংকের কাজের ফিরিস্তি দেখিয়ে বিনিয়োগকারী ঝুকিয়েছেন।
স্বঘোষিত সিআইপি শামীম ভূঁইয়ার সাথে একটি বিশেষ চক্র জড়িয়ে রয়েছে। তারা নানা প্রতিষ্ঠান সংস্থার ও পেশা শ্রেণীর ব্যক্তি। শামীম ভূঁইয়ার গোটা ব্যবসায়ীক বিষয়টি এবং তার স্থাপনার হিসেব নিলে আয়ের খাত এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। জানি না দেশের স্বাধীন দুর্নীতি কমিশন এ বিষয়টি নজরে নিয়েছেন কিনা। তবে তাকে যে তালিকাভূক্ত করেনি তার মোটামুটি ধারনা ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে। কোন গোয়েন্দা সংস্থা তার ব্যবসার বৈধতা যাচাই করছে তেমনও মনে করার কোন প্রমাণ মিলছে না।

মিলছে না বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আগ্রহ সৃষ্টি হবার কারনটি। দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার অনুসন্ধানে যে তথ্য বেরিয়ে আসছে তা পর্যালোচনা করলে কথিত সিআইপি পরিচয়দানকারী ব্যবসায়ি শামীম ভূঁইয়াকে প্রতারক না বলে ব্যবসায়ি বলার সুযোগ রয়েছে বলে মনে হয় না। তার পরিকল্পিত বিনিয়োগ গ্রহণের প্রক্রিয়াটা মনে হয় আইন ও ব্যবসায়ীক বিধি সম্মত নয়। সার্ভিক বিষয়টি পর্যালোচনা করলে তার ব্যবসার প্রক্রিয়াটা দুর্নীতির বাইরে চিন্ত করা কঠিন। তিনি পরো ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে যেভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তা একেবারেই দুর্নিিতর সামিল। তাকে দুর্নীতির শিরোমনি বলা হলে বোধ হয় ভূল হবে না। এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে দেশের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের মাধ্যমে। তার ব্যবসার বৈধতা আইন বিবেচনায় নিলে বের হতে পারে তার অবৈধ পন্থায় আয়ের উৎস। আশা করি দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার অনুসন্ধানীরা বিষয়টি আরো গভীরে ও নানা তথ্য উপাত্য নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :