মন্তব্য প্রতিবেদন নির্ধারিত আইন বিধি সত্য নিশ্চিতে মাপকাটি কোথায়?

এইচ এম জালাল আহমেদ

জ্ঞাণের পরিধিটা অনেক নয়। তারপরও যতটা রয়েছে ততটার খোরাক যোগানো দায়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে আসছে দৈনিক আমাদের কণ্ঠ। সব আলোচনার মধ্যে আইন বিধি ও সত্য এ তিনটি শব্দের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে এগুলো রাষ্ট্র প্রণয়ন করেছে। কিন্তু যথার্থ প্রয়োগ নেই। সব ক্ষেত্রে না হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তেমনটি প্রকাশ পাচ্ছে। আইন বিধি সত্য এগুলো কেমন যেন কোথাও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। কেন যেন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। কারো কারো মতে স্বাভাবিক গতি রোধ করা হয়েছে। কিন্তু কে কিভাবে রোধ করতে পারে আইন বিধি ও সত্যের গতি তেমনটি অবশ্য জানা নেই। জানার চেষ্টা করেছি। কিছুটা বূঝতে পারিনি তাও নয়। তবে সব কিছুরই প্রমাণ প্রয়োজন। এগুলোর প্রমাণ অনুমেয় প্রত্যক্ষ নয়। যাই হোক বিষয়টি রাষ্ট্রের দেখার বিষয়। নিশ্চিত হবে আদালতে। আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
আলোচনার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা অনেকেই আইন সম্পর্কে কতোটা অকিবহল তা সন্দেহের। বিধি মানেন কতজনে তাও বিবেচ্য বিষয়। তবে আলোচনায় স্থান দেবার কারন হচ্ছে রাষ্ট্র দেশের মধ্যে চলমান অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে নানা সময়য়ে প্রয়োজনের তাগিদে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে থাকে। সেসব আইনের বিধি বা ধারা উপ ধারা কার্যকর বা প্রয়োগের জন্য যারা দায়িত্বে নিয়োজিত তারা সফল না ব্যর্থ তাও বলাবাহুল্য। সত্য বলাটা কি ইচ্ছের ওপর নির্ভরশীল কিনা তা বিবেচনার বিষয়। অনেক সত্য রয়েছে যা প্রমাণ করা দুরহ ব্যাপার, তবে অনুমেয়। উপলদ্ধি করা যায়। বিশ্লেষণে প্রকাশ পায়। কিন্তু আদালতের সামনে প্রমাণ হিসেবে উপাস্থাপন করা কঠিন।
উদাহরন হিসেবে ধরে নেয়া যায়, সংঘটিত কোন ঘটনা বা অঘটন ঘটলে তা তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা জটিল। কিন্ত কোন ঘটনা ঘটলেই আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলরাও কেন যেন ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোন কিছুর বিচার না করে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করে বসেন। নানা ভাষায় আকার ইঙ্গিতে প্রকাশিত হয় মিডিয়ায়। ব্যাপক প্রচারনা, আলোচনা সমালোচনা চলে সমানতালে। অবশ্য অমনটি আইনের দৃষ্টিতে বোধ হয় কাম্য নয়। সবার জানা থাকলেও অবাধ মন্তব্য করে আসছেন। যা আইন ও বিধিসিদ্ধ নয় বলেই মনে হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিটা এমন এক স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে যা বিবেচনায় নেয়া জরুরি হয়ে পড়ছে। স্বাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠছে আসলে কি আইন বিধি ও সত্য কি গুরুত্বের সাথে স্বাভাবিক গতিতে চলছে? সে কারনেই বলা হয়েছে এগুলোর পরিমান নিশ্চিত করার পরিমাপ কোথাও রয়েছে কিনা? মনে হয় আদালত ছাড়া এর পরিমাপ করার বৈধ সুযোগ নেই কোথাও।
আইন বিধি ও সত্য নিশ্চিত করার কোন পরিমাপের স্থান নেই। তবে বিষয়টি আদালত ফয়সালা দেবার ক্ষমতা রাখে। বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত নানা বিষয়ে উম্মা প্রকাশ করে থাকেন। তাদের এ উম্মা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার হয়ে আসছে। এরূপ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ধারনাটা ছোট করে ভাবার সুযোগ রয়েছে কিনা তা জানা নেই। তবে জানার ইচ্ছে ছিল স্বাভাবিক গতি কোথায় এবং কেন হারিয়ে যাচ্ছে। সত্য কেন শক্তি নিয়ে যথাস্থানে সোজা হয়ে টেকসইভাবে দাঁড়াতে পারছে না। আদালত তো শুণ্যের ওপর কিছু বলবেন বা আদেশ দিবেন বলে মনে করারও কোন সুযোগ নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা অনুমেয়। বাস্তবতা সত্য এবং সঠিক। দৈনিক আমাদের কণ্ঠ ধারাবাহিক তিনটি বিষয় নিয়ে খোলামেলা সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছে। সে সব আলোচনায় পরিস্কারভাবে প্রকাশ পেয়েছে আইন বিধি ও সত্য আদালতে প্রমাণ পেলেও সাধারণ মনুষের মধ্যে দানাবেঁধে রয়েছে নেতিবাচকভাবে।
আরো পরিস্কার করে বলা যায়। ঘটনা হোক অঘটন হোক আইন বলছে বিধি মোতাবেক তদন্ত সাপেক্ষে সত্যটা তুলে ধরবে। তদন্তকারী সংস্থা বা ব্যক্তি তার তদন্তে এবং দায়িত্ববানদের কর্তব্যের সততা বিদ্যমান রাখাই বাঞ্ছণীয়। কিন্তু তেমনটি যদি তদন্তে বা অনুসন্ধানে স্থান না পায় তাহলে এবং যখন পাবার কথা তখন না দেয়া হলে কি স্বাভাবিকগতি বলা সম্ভব? আইন অন্যায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিবে তা-ই বিধি বা বিধান। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ পাচ্ছে আদালতে প্রেরন করার বিষয়টিতে যে গতি থাকার কথা তেমনটি বিদ্যমান নেই। অভিযোগ ওঠছে আদালতের কাছেই তদন্তে যা তুলে ধরা হয়েছে তা যথার্থ নয়। ইহা মোটেই সত্য নয়। আইন এ বলা রয়েছে ধারা উপধারায় কোন অসত্যের স্থান কাম্য নয়। সত্যতার জোর থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আদালতও হিমশিম খান লেখনির কারনে পাঠানো প্রতিবেদনটি কতোটা সত্যের ওপর জোর দেয়া হয়েছে কিনা।
আইন বিধি ও সত্য নির্ধারন করে দেয়া রয়েছে সেখানে প্রয়োগে যথার্থতার গতি রয়েছে কিনা। এটা কথার কথা নয়। বাস্তবতায় অনেকটা মিল রয়েছে আলোচনার বিষয়বস্তুতে। হয়ত এ বিষয়টি কেউ আদালতের নজরে নেননি। যদি কেউ আদালতের নজরে নিতেন তা হলে অবশ্যই একটা আদেশ আদালত দিতেন। যখন কোন আদেশ আদালত ঘোষণা করেননি তখন এ ব্যাপারে মন্তব্য করা কঠিন। বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে বলা যায় আইন বিধি ও সত্য যথার্থ স্থানে নেই। না থাকার কারনে সাধারণ মানুষ হতাশায় ভূগছেন এবং রাষ্ট্র রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিভাবে এবং কেন বঞ্চিত হচ্ছে তার কয়েকটি উদাহরন টানতে দৈনিক আমাদের কন্ঠের পরবর্তী আলোচনা।

 

আপনার মতামত লিখুন :