মন্তব্য প্রতিবেদন ব্রিটিশ বিধানে পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান জটিলতা দূর করা আদৌ সম্ভব নয়

এইচ এম জালাল আহমেদ

যারা রাষ্ট্র ও জাতিকে নিয়ে ভাবেন তারা অবশ্যই ভালো একটি পুলিশ বাহিনী দেখতে চান। জাতির সব প্রয়োজনেই পুলিশ জড়িয়ে রয়েছে। যদিও তাদেরকে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। পূর্বেই বলা হয়েছে যে দেশের পুলিশ বাহিনী টেকসই অবস্থানে অবস্থান করে নিজ নিজ দায়িতাব ও কর্তব্য পালন কেেত পারে সে দেশের আইন শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পরিবেশ অবশ্যই ভালো থাকে। যেমনটি ক্যানাডা বিটেনে পুলিশ। ভালো অবস্থানে রয়েছে মালেয়শীয়ার পুলিশ বাহিনীর অবস্থানও অনেকটা ভালো এবং নন্দিত। বিশ্লেষকদের ধারনা ভালো একটি নিয়োগ বিধিসহ ব্রিটিশ বিধান পরিবর্তন করে নতুন একটি টেকসই বিধান তৈরি করে পরিচালিত হলে বিশ্বের যে কোনে া দেশের পুলিশ বাহিনীর চেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী গর্বিত ও নন্দিত হবে। সে কারনেই বলা হয়েছে ব্রিটিশ বিধানে পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান জটিলতা দুর করা আদৌ সম্ভব নয়। যে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে, তাহল পুলিশ বাহিনীর নতুন নতুন পদ ও পদোবী র‌্যাংক ব্যাচ ব্যাবহার করে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে তার ভেতর আইনি কিছুটা দ্রুটি রয়েছে বা রয়ে যেতে পারে বলেই সচেতন মহল মনে করেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধ্যান করতেই পারে যদি প্রয়োজন বোধ করে।

তারা যাচাই করে নিতে পারে বিদ্যমান নিয়োগ বিধির পরিপন্থি কোন বিষয় চালু রয়েছে কিনা? অনেকের মতে রয়েছে। আমাদের কণ্ঠ ওবিষয়টি তুলে ধরতে চায়। ব্রিটিশ বিধান যখন হয়েছে তখন নন ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে যে শিক্ষাগতযোগ্য নির্ধারন করে দিয়েছিল, সে পরিমান শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এখন আর সুপারে নিয়োগপ্রাপ্তিও সম্ভব নয়। আজ থেকে ২০/২১ বছর পূর্বেও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা টিপ সই দিয়ে বেতনভাতা গ্রহন করতেন। তাদের যে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়োগের সময় ছিল সে শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যতা যাচাই করার সুযোগ ছিলনা তাদের শিক্ষা সনদে। বলাবাহুল্য আজকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বনিন্ম পদ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেতে কমপক্ষে এসএসসি পাস এর সনদ প্রয়োজন রয়েছে। অনুসন্ধ্যানে যতটুকু বেড়িয়ে আসছে তাতে দেখা যায় যদিও রাষ্ট্র এসএসসি ও সমমানের পাসের ১৮ বছর অতিক্রম করছে তেমন যুবকরা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের বেশীরভাগ কমপক্ষে এইচএসসি পাশ। কেউ কেউ বিএ বা এমএ পাস যুবকরাও রয়েছেন। বর্তমান পুলিশ সদস্য ও ব্রিটিশ বিধির সেকালের পুলিশ সদস্যের মধ্যে ব্যাবধান অনেক বেশী। পূর্বে উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) পদে যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের সর্বনিন্ম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারন রয়েছে বিএ বা সমমানের সনদের যুবকেরা সরাসরি নিয়োগের সুযোগ পেতেন।

বর্তমানে যারা এ পদে নিয়োগ পেয়ে কর্মরত রয়েছেন তাদের বেশীরভাগই এম এ বা সমমানের পাসের যুবক। পূর্বে পুলিশ সদস্য বা কনস্টেবল পদটি ছিল চতুর্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা যা বরÍমানে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা। উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) পদটি ছিল তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ যা বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ। যে বিষয়টির ওপর দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন, ব্রিটিশ বিধি যখন তৈরী হয়েছে তখনকারের পরিবেশ পরিস্থিতির চরিত্রের ধরন একই নয়। তাদের নিয়োগের বিধান চলমান পরিেিবশ পরিস্থিতির চরিত্রের সাথে মিল রাখা বাঞ্ছণীয়। এ পরিবেশে এবং পুলিশ বাহিনীতে বিভাগীয় পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে জটিলতা দেখা দিচ্ছে তা পরিহার করতে হলে নিয়োগের স্বচ্ছতা জরুরি। তাই নিয়োগ বিধিতে পরিবর্তন করে নতুনভাবে কাঠামোর বিষয়টি টেকসই করে বিধির বিধানে আমুল না হলেও মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

তাই পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ দু’ধারায় হওয়া উচিৎ বলে সচেতন মহল সমর্থন করেন। এক) কনস্টেবল ও উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা উচিৎ। বাতিল করা উচিৎ সরাসরি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদের নিয়োগ। এসআই পদটিতে আপত্তি থাকলে নতুন বিধিতে কনস্টেবল ও পুলিশ পরিদর্শক পদে নিয়োগের বিধান রাখা যেতে পারে। পুলিশ পুরিদর্শক পদে সরাসরি নিয়োগ হবে ক্যাডারভূক্ত। অর্থাৎ বিসিএস পুলিশ ক্যাডার। সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ্যাডিশনাল এসপি), পুলিশ সুপার (এসপি), অতিরিক্ত উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক ( এ্যাডিশনাল ডিআইজি), উপ মহাপুলিশ পরির্দশক (ডিআইজি), অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (এ্যাডিশনাল আইজিপি) ও পুলিশ প্রধান মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) পদগুলো বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পুরন করার বিধান যথারীতি বহাল রাখা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :