মন্তব্য প্রতিবেদন রাজনীতি থেকে কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটাতে হবে

এইচ এম জালাল আহমেদ

রাজনীতি দেশ জাতি ও রাষ্ট্রের কল্যাণে। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তেমনটি ভাবা কঠিন। অনেকের ভাষায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ একেবারেই রাজনৈতিক অঙ্গণে অনুপস্থিত। তাই সব ক্ষেত্রে কেমন যেন একটা কর্তৃত্ববাদের প্রভাব বিস্তার করছে। তাই সাধারণ মানুষ নিজেদেরকে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত মনে করছেন। বাকশক্তি রুদ্ধ এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে। সরকার যদিও কথাগুলো মানতে নারাজ। নানা উন্নয়নের যুক্তিতে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড আড়াল করা হচ্ছে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ। রাজনৈতিক অঙ্গণটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি অনুভব হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের পদচারনার ওপর। রাজপথে বিএনপি বা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড একেবারেই অনুপস্থিত বলেই সাধারণ মানুষ মনে করেন। দেশে রাজনৈতিক দল রয়েছে কিন্তু স্বাভাবিক কর্মকান্ড নেই। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কর্তৃত্ববাদের জন্ম নেয়া সহজ। কর্তৃত্ববাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিদ্যমান রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশে অপরাধের প্রভাবনতা যতই কম থাকুকনা কেন কর্তৃত্ববাদের বিছিন্ন ঘটনাগুলো রাষ্ট্রকে ঝাকনি দেয়। এসব ঘটনা জাতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে। সরকারে যারা থাকে তারা বিষয়টি উপলদ্ধি করলেও ক্ষমতার মোহে তা অনুভব করে কিনা তা বিবেচ্য বিষয়। দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিরাজ করছে কিনা তাও ভেবে দেখার সময়। একছত্র আধিপত্ত্য ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করা সহজ হতে পারে কিন্তু স্বাভাবিক পরিবেশ আশা করা মোটেই সম্ভব নয়। তেমনটি রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন। রাজনীতিতে ছাড় বলতে কোন সুযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে নেই। রাজনৈতিক কর্মকান্ড যদিও প্রতিযোগীতার।

কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবেশে তেমনটি মনে করারও কোন সুযোগ রয়েছে বলে ভাবা কঠিন। এটাই বোধ হয় বাস্তবতা। জনপ্রতিনিধি নির্ধারন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক গতিবিধি বিদ্যমান রাখা রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশেই সম্ভব। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তেমনটি মনে করার সুযোগ নেই বলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মন খুলে বাস্তবতা তুলে ধরছেনা বলেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ। যারা স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে মুক্ত আলোচনা করার কথা তারা বাস্তবতা থেকে সড়ে পড়ছেন বলেও কারো কারো অভিযোগ। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের পরিস্কার বক্তব্য হচ্ছে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। তারা সরকারের একটি আইনের কিছু ধারার উদাহরন টেনে তাদের বক্তব্যের যথার্থতা বোঝাতে চাইছেন। আইনটি ধারাগুলো ঘাটলে দেখা যায় আইনের ধারায় যাই বলা থাকুকনা কেন কোথাও বলা নেই সত্য কথা বলা যাবেনা। তাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা রাজনীতি নিয়ে যাদের আলোচনা করারর কথা তারা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই আইনের ধারার অজুহাত দিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ একছত্র কর্তৃত্ববাদ চালাচ্ছে তেমনটি কিন্তু বলার কোন সুযোগ নেই। তবে রাজনীতিতে কর্তৃত্ববাদের কোন প্রভাব নেই। কর্তৃত্ববাদ সৃষ্টি হয়েছে সব ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির নেতৃত্বে।

আরো সোজাভাবে এবং মোটাদাগে বলা যেতে পারে রাজনীতি বহাল না থাকলে একটি কর্তৃত্ববাদের বলায় সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। কেউ যদি কারো থেকে ভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে তাহলে তার কাছে সে ব্যক্তি দুর্বল থাকবে তেমনটিই স্বাভাবিক। কোন দল রাষ্ট্র পরিচালনায় টিকে থাকতে কোন সংস্থা বা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এবং কোন ব্যক্তি বিশেষকে তার দায়িত্ব দেয় তাহলে অবশ্যই কর্তৃত্ববাদের বলায় সৃষ্টি হবে। দেশের বদ্যিমান পরিস্থিতিতে তেমন কোন বিষয় বিদ্যমান কীনা তা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ভাবতে হবে রাষ্ট্র থাকলে রাজনীতি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিকেই রাজনৈতিক অঙ্গণ প্রতিযোগীতার স্থান রাজপথ তৈরি করতে হবে। স্বাভাবিক ও সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি দৃশ্যমান করতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের আস্থায় নিতে হবে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী গ্রুপ যে যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন না কেন প্রকৃত সত্যটা কেউ প্রকাশ্যে না বললেও বাস্তবটা সবাই পরিস্কারভাবে বুঝতে পারছেন। নির্বাচন কমিশন ও সিইসি যতোই বলে মুখে ফেনা তুলুকনা কেন বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। এ ভিন্নতা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও অস্বীকার করা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষেও কঠিন।

বিএনপি রাজনৈতিক অঙ্গণে একেবারেই অনুপস্থিত তাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারন তাদের কোন প্রতিবাদের জোরালে কর্র্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গণে নেই। তবে দলটি জাতীয় সংসদ থেকে স্থানীয়সহ সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিয়মিতভাবে। তারা চলমান নির্বাচন পরিবেশ পরিস্থিতি এবং সিইসিসহ ইসির ভূমিকা নিয়ে যে অভিযোগ করে আসছে তা ক্ষমতাসীনরা মানতে না রাজ। তারা বলছে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে রাজপথে নামতে সাংগঠনিক শক্তি হারিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থা রয়েছে তেমন কোন ইঙ্গিতও নেই। আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিকতায় রাজপথে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া জরুরি। রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয়। রাষ্ট্রের নানা অঙ্গে যেভাবে কর্তৃত্ববাদের বলা সৃষ্টি হবার অভিযোগ ওঠছে তার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন। তাই সাধারণ মানষের প্রত্যাশা রাষ্ট্র, জাতি ও দেশের কল্যাণে অবশ্যই রাজনৈতিক অঙ্গণটি স্বাভাবিক রাজনীতির প্রতিযোগীতায় পরিনত হোক। বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি হোক নির্বাচনের প্রক্রিয়ায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ও নির্বাচনের প্রক্রিয়ার আস্থা সৃষ্টি করাও জরুরি। নইলে কর্তৃত্ববাদ আরো শক্তিশালী হলে আওয়ামীলীগ বিএনপির রাজনীতি ভেঙ্গে পড়তে পারে। কর্তৃত্ববাদের মাঝে বিছিন্ন ঘটনাগুলোর প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সোজা কথা রাজনীতি থেকে কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটাতে হবে। এ কাজটি আওয়ামীলীগ ও বিএনপিরই করতে হবে। তেমনটি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

 

আপনার মতামত লিখুন :