মন্তব্য প্রতিবেদনঃ রাষ্ট্রের নজরদারি ছাড়া স্বাভাবিক সড়ক স্থাপন জটিল

এইচ এম জালাল আহমেদ ।। সড়ক মহাসড়ক বা রাস্তা যেন হীরক রাজার দখলে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিমসিম খাচ্ছে সড়ক স্বাভাবিক রাখতে। প্রয়োজনের তুলনায় সার্বিকভাবে তাদের অস্থান তলানিতে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ট্রাফিক আইন বা রাস্তার বিধি বাস্তবায়ন করতে যে উপকরন ও জনবল প্রয়োজন তা তাদের নেই। তাছাড়াও রয়েছে যানবাহন বা পরিবহন ধারন ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী। বিদ্যমান রয়েছে পরিবহন সংস্থার একগুয়েমী মনোভাব। তারা পরিবহন বা যানবাহনের চালকদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে নিতে অক্ষমতার পরিচয় রাখছে। বারবার রাষ্ট্র তাগাদা দেবার পরও তারা এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না। দেশের চালকদের পরিসংখ্যানে মোটামটি ধারনায়া বেড়িয়ে আসছে তাতে ১৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে পরিপক্ষ চালকদের সংখ্যা। তাদের উদ্যোগ নেই পরিপক্ষ, যোগ্য ও দক্ষ চালক সৃষ্টি করার। নেই চালকের শ্রেণীবিন্যাশ করে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। সব ক্ষেত্রেই শুণ্যতার দিকে নামছে বলে প্রতিমান হচ্ছে বলে অনেকের ধারনা।
কয়েক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর ব্যাপকভাবে সফল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাষ্ট্র তথা সরকার কঠোর আইন করেছে। কয়েকদিন এ নিয়ে দেশে বেশ একটা হৈচৈ পড়ছিল। কিন্তু পরিবহন সংস্থা থেকে নেতিবাচক কর্মকান্ডে সরকার বা রাষ্ট্র পিয়ে গেছে না বলা গেলে যথার্থ প্রয়োগ জিমিয়ে পড়ছে।

যদিও রাষ্ট্র প্রণয়নকৃত আইনটি বাতিল বা সংশোধন করেনি। তারপরও আইনের যথার্থ প্রয়োগ রয়েছে তেমন কারো থেকে শোনা যাচ্ছে না। তাছাড়াও সড়ক মহাসড়ক বা রাস্তায় চলাচলরত পরিবহন বা যানবাহনে চালকদের দেখলে এবং অবস্থানে মোটেই মনে করার সুযোগ নেই আইনটির যথার্থ প্রভাব রয়েছে। তবে থাকা প্রয়োজন বলে সবাই মনে করেন। কিন্তু সেভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় তৎপর থাকতে পারছেন না। অবশ্য তৎপরতা চালানোর মত তাদের জনবল ও উপকর নেই। যদিও থাকা প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ স্বীকার না করলেও বাস্তবতা তাই।
ট্রাফিক আইন বা রাস্তার বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ বাহিনীর সীমিত সংখ্যক সদস্য। তাদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় তিনের একাংশেরও কম বলে গবেষকরা মনে করেন। প্রতিসেকেন্ডে সড়ক অতিক্রম করে ৩০ টন। অর্থাৎ সড়ক ধারন করতে পারবে ৫ থেকে ১০ টন। একই সময়ে সড়ক বা রাস্তায় চাকা ঘুড়ে ৮০ কিলোমিটার গতির পরিবর্তে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে। মহাসড়কে অধিকাংশ পরিবহন বা যানবাহন এর গতি থাকে ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। কিন্তু বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির রয়েছে ১২০ কিলোমিটারের সড়ক বা মহা সড়ক। যাই হোক এসব বিবেচনা তো কেউ করেন বলে মনে করারও কোন সুযোগ নেই। গতি বেগ সম্পর্কে বাংলাদেশের চাকদের কতজন জ্ঞাত তারও কোন পরিসংখ্যান করার মতো তথ্য কারো কাছে নেই। তবে এগুলো জানার কথা এবং উচিৎ।

চালকেরা জানেনা কখন কিভাবে হর্ণ বাজাবে। হর্ণ বাজনোর শর্ত তাদের জানা রয়েছে তেমনও প্রমাণ মিলছে না চালকদের মধ্যের্।
ট্রাফিক আইন বা রাস্তার আইন মানলে কোন চালক সড়কের রেখা সংকেত অমান্য করতে পারত বলে কেউ মনে করেন না। চালকরা জানেনা কখন কেন কোন পরিবহন বা যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ। কখন কোন পরিবহন বা যানবাহনকে অতিক্রম করার সুযোগ দিতে বাধ্য। চালকরা জানেনা জেব্রাক্রশিং এ গাড়ির গতিবেগ কত থাকবে। তাকায় আলো, দেহ বা হাত ও এ্যারো সংকেতের দিকে। রাস্তা ফাঁকা পেলেই নিজ ইচ্ছেতে গাড়ি চালিয়ে যায়। ফলে যানজট ও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়। এরূপ পরিস্থিতিতেও দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা প্রায়্ই ঘটছে। মহাসড়কগুলোতে সাম্প্রতিক হাইওয়ে পুলিশ থাকে তবে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে যথার্থ দায়িত্ববান পুলিশ সদস্য চোখে না পড়ার মতই। এ বিষয়টি অবশ্য সবারই জানা। তাই এনিয়ে বেশী আলোচনার প্রয়োজনীতা নেই। তবে উপরোক্ত আলোচিত বিষয়গুলোর দিকে সংশ্লিষ্টরা ও রাষ্ট্রের যথার্থ নজরদারি জরুরি।
যথার্থ নজরদারি নেই বলেই সড়ক মহাসড় বা রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন ও পরিবহন চালকরা বেপরোয়াপনায় লিপ্ত হয়। তারা অতিরিক্তমাত্রায় বেপরোয়া হওয়াতে সড়ক মহাসড়ক বা রাস্তায় স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারছে না। রাখার জন্য তেমন কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও চোখে পড়ছে বলে কেউ বলতে পারছেন না। যেভাবেই হোক সড়ক মহাসড়ক বা রাস্তার দিকে নজরদারি বাড়াতে হবে যথার্থতায়।

নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি বেপরোয়া থেকে স্বাভাবিকতায়। এ বিষয়টির দিকে রাষ্ট্রের কঠোরভাবে নজরদারি প্রয়োজন। জরুরি হয়ে পড়ছে নজরদারির। যদি গুরুত্বের সাথে দৃষ্টি দেয়া না হয় তাহলে দিন দিন বেপরোয়ার পরিনতি চরম পরিস্থিতিতে দেশকে নিয়ে যেতে পারে। তাই আলোচকরা বলছেন এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া বাঞ্চণীয়। যেভাবেই হোক বেপরোয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাবস্থা নিয়ে শৃঙ্খলায় ফেরানো। সবার প্রত্যাশা এ ব্যাপারে রাষ্ট্র অবশ্যই নজরদারি করবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিবে জরুরিভাবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :