মুন্সীগঞ্জে বন্যায় পাটের আঁশ ছাড়ানো নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

সাইফুল ইসলাম,মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে পাটের আঁশ ছাড়ানো নিয়ে বিপাকে পরেছে পাট চাষিরা। পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে কৃষক সাধারণত বাড়ীর পাশের পরিত্যক্ত স্থান ডোবার পাশের উঁচু জমি,গ্রামের রাস্তার পার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এবছর বন্যার কারণে পানিতে নিচু রাস্তাসহ বাড়ীঘর তলিয়ে যাওয়ায় পাটের আঁশ ছড়ানো নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন পাট চাষিরা। সরোজমিনে,টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল, দিঘিরপাড়, পাচঁগাও অঞ্চলে গিয়ে দেখা যায় চারদিকে বন্যার পানি থৈ থৈ করছে। হাসাইল বাজার মাছঘাট এলাকায় পাকা রাস্তার উপরে বসে পাটের আশঁ ছাড়াচ্ছেন একদল মহিলা ও কিশোরী। পাটচাষী ইব্রাহিম ট্রলার ভরে নদীর ওপারের চরাঞ্চল হতে পানিতে ভিজানো পাট নিয়ে আসছেন এপারে উচু জমি হাসাইল মাছঘাটে। আর সেখানে বসে আশঁ ছড়াচ্ছেন প্রায় অর্ধশত মহিলা ও কিশোরী।

ট্রলার হতে নামিয়ে ভিজানো পাটগাছগুলো আশঁ ছড়ানোর জন্য উপরে তুলে দিচ্ছেন আর একটু উচু জমির মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক মহিলা ও কিশোরী পাটের আঁশ ছড়াচ্ছেন। যে স্থানটিতে বসে আঁশ ছড়াচ্ছেন সেখানেও পানি ছিপছিপ করছে। এ ব্যাপারে পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজে ব্যাস্ত রুবিনা বেগম জানান, পানিতে সব জমি তলিয়ে যাওয়ায় উঁচু অল্পস্থানে গা ঘেসেঁ বসে আমরা পাটের আঁশ ছড়াচ্ছি। কৃষক ইব্রাহিম জনান,এ বছর পাটের ফলন ভালো হলেও হঠাৎ করে পানি বাড়তে থাকায় বেশি দামে লোক নিয়ে পাট কেটেছি আবার এখোন নদীর উপারে চরের জমি বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় এপারে ট্রলারে পাট ভরে এনে আশঁ ছড়াতে হচ্ছে। এতে ব্যায় অনেক বেড়ে যাবে। তাছাড়া পাটের দামও এ বছর অন্যান্য বছরের তুলোনায় কম।

এখোন প্রতিমন পাট ১৪-১৫ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে চাঠাতি পাড়া গ্রামের মন্টু মোল্লা জানান,কয়দিন আগে রাস্তার উপরে পাটের আঁশ খুলেছি। এখোন ওই রাস্তায় পানি উঠে গেছে। এখোন কোথায় আঁশ ছড়াবো আল্লাহ্ই জানে। এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বছর এই উপজেলায় ৭৩৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ১ হাজার ৪২ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও দাম এ বছর কিছুটা কম বলে জানা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :