মেধাবীরা বঞ্চিত পাথরঘাটার রায়হানপুর আলিম মাদ্রাসা তিন পদে ১২লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য

মো.জাফর ইকবাল,পাথরঘাটা,বরগুনা

 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের রায়হানপুর আলিম মাদ্রাসায় অফিসসহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে ৬লক্ষ নৈশ প্রহরী পদে ৪লক্ষ এবং আয়া পদে ২লক্ষসহ মোট ১২লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে তিন ব্যক্তিকে মাদ্রসা সুপার মো.আবু বক্কর ছিদ্দিক নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে উক্ত মাদ্রাসায় উল্লেখিত পদগুলিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চলতি বছরের ২০জানুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তী প্রকাশ করা হলে অফিসসহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে ২১জন নৈশ প্রহরী পদে ৪জন এবং আয়া পদে ৪জনে আবেদন করেন। ১৪জুলাই মঙ্গলবার উক্ত নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হলে অফিসসহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে ১৭জন এবং অন্যান্য পদের আবেদনকৃত সকল প্রার্থী অংশ গ্রহণ করে যথাযথ ভাবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিলেও প্রার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল তাৎক্ষণিক প্রকাশ না করে একটি পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা দেখিয়ে পূর্বথেকে ঘুষ নেওয়া মো. কাঞ্চন জমাদ্দারের ছেলে ওষুধ ব্যবসায়ী মো. মহারজসহ অন্য দুই পদের দুইজনকে পরীক্ষার কয়েকদিন পরে নিয়োগ প্রদান করেন কমিটি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নিয়োগ বঞ্চিত আবেদনকৃত মো.রাসেল, মো. বাকিবিল্লাহ, মো.ইব্রাহিমসহ একাধিক প্রার্থী বলেন মাদ্রসা সুপার আবু বক্কর ছিদ্দিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই তিনটি পদের জন্য তিন ব্যক্তির কাছ থেকে ১২লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তারা বলেন আমরা অনার্স,মাষ্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করে এবং লিখিত ও মৌখিক নিয়োগ পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেও টাকার কাছে হেরে গেলাম। নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীরা বলেন সুপার ঘুষের টাকা দিয়ে নিয়োগ কমিটিকে ম্যানেজ করে আমাদেরকে বঞ্চিত করে এইচএসসি পাশ একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা নিয়োগ বাতিল করে পূনরায় নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবী জানান।

জানতে চাইলে বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন জোমাদ্দার ও লেমুয়া বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ও ঘুষের বিষয়ে আমরা যখন সুপারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তখন সুপার আবু বক্কর ছিদ্দিক আমাদের কাছে নিয়োগ বাতিল করার কথা বল্লেও এখন তিনি বিভিন্ন কথা বলে আসছেন। তারা বলেন এখানে মোটা অংকের টাকার বিনীময়ে যোগ্য লোককে বাদ দিয়ে অযোগ্য লোককে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে । জাহাঙ্গীর হোসেন জোমাদ্দার ও জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন যদি টাকার বিনীময়ে অযোগ্য লোকের চাকুরী হয় তা হলে যেমন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে, তেমনি ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

তাই আমরা এনিয়োগ বাতিল করে পূনরায় যোগ্য প্রার্থিকে নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবী জানাই এব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অগনিতবার ফোন করার পরেও সে রিসীভ না করায় উপজেলা মাধ্যমিক এ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রকাশ করা উচিৎ। এব্যাপারে সুপার আবু বক্কর ছিদ্দিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন একটি নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন ভাবে খরচ আছে।

আপনার মতামত লিখুন :