মৌলভীবাজারে খেয়াঘাটে বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গন

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন, রাজনগর উপজেলার ৭নং কামারচাক ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নসহ ৩ উপজেলার সম্মুখস্থল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ঘেষা শ্যামেরকোনা খেয়াঘাটে দীর্ঘদিন যাবৎ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনে নদীর দুই পাশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঘর-বাড়ী বিলিন হয়ে যাবার অশংকা রয়েছে। বৃষ্টি মৌসুমে জোয়ারের পানি ব্যাপক ভাবে চাঁপ দিবে। ওই সময় বাঁধের মধ্যে পানি ঢুকে বালু সরে গিয়ে আর বাঁধ টিকবে না। পাশাপাশি এই মৌসুমে অভয়চরণ উচ্চ বিদ্যালয়, শ্যামেরকোনা সরকারি (জুনিয়র) প্রাইমারি বিদ্যালয়, শ্যামেরকোনা দাখিল মাদ্রাসা, দি হলি চাইল্ড কেজি স্কুল ও শ্যামেরকোনা বাজারের লোকজন, ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় লোকজনদের চলাচলের রাস্থাটি বালুর গাড়ি দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করায় ধুলা বালির সৃষ্টি হয়ে লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্থাটি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধুলাবালি ও গাড়ীর শব্দে শব্দ দূষন হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে। কোমলমতি শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন ৩ উপজেলার লোকজন। জানা গেছে- প্রতিবছরই এই নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। নদী সন্নিকটের বাসিন্দাদের দাবি “শ্যামেরকোনা খেয়াঘাটে” ইজার দেওয়া চিরতরে বন্ধ করা না হলে ভাংঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দাসহ উপজেলার লোকজনদের ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গৃহপালিত প্রাণী চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। “শ্যামেরকোনা খেয়াঘাটে” ইজার গাট চিরতরে বন্ধ করার দাবীতে স্থানীয় এলাকাবাসী গণ স্বাক্ষর দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোঃ আনকার মিয়া, মোঃ ফজলুল কাদির, হাজী আব্দুল মালিক, মোঃ সিরাজ মিয়া, আছকির মিয়াসহ স্থানীয় লোকজন বলেন- নদীতে পানি কমার সাথে সাথেই এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সদর উপজোর শ্যামেরকোনা, পালপাড়া, বাঘরঘর, বাসতলা, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের জলালপুর, কোনাগাঁও, নোয়াগাও, খাস প্রেমনগর এবং কমলগঞ্জ উপজেলার চৈত্রঘাট. কালিমন্দির, লক্ষীপুর এলাকার উভয় তীরে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভিটেহারা হতে পারে বলে জানান এলাকাবাসী।

 

আপনার মতামত লিখুন :