মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রংপুরের পীরগঞ্জে নোটিশ ছাড়াই জলমহল খনন

মাহফিজুল ইসলাম রিপন

রংপুরের পীরগঞ্জে এক বছরের জন্য জলমহল ইজারা দেয়ার চুক্তি করে সাত মাস না যেতেই পানি শূন্য করে খনন করার অভিযোগ উঠেছে রংপুর মৎস্য অফিসের বিরুদ্ধে। এতে করে জলমহল ইজারা নেয়া মৎস্য চাষি লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগ ঠিকাদারের অজ্ঞতাকে দায়ি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ২০২০সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে ১টি জলমহল ইজারা দেন। এতে সর্বোচ্চ টাকা ডাকের মাধ্যমে জলমহলটি এক বছরের জন্য লিজ নেয় স্থানীয় এক মৎস্য চাষি। তিনি ইজারা নিয়ে যথাযথ ভাবে বিলটি সংস্কার করে ২০লক্ষ টাকার মাছ চাষ করেন।

এদিকে জেলা মৎস্য অফিস ওই লিজকৃত জলমহলের ৭মাস না যেতেই মৎস্য চাষিকে মাছ আহরণের সুযোগ না দিয়েই নোটিশ ছাড়াই জলমহলের পানি পার্শ্ববর্তী আখিরা নদীতে প্রবাহিত করে খননের কাজ শুরু করেন। এতে কয়েক লক্ষ টাকার মাছ নিধন হয়ে যায় ইজারা নেয়া ভুক্তভোগী ওই মৎস্য চাষির। এ বিষয়ে মাছ চাষি উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নিকট মাছ আহরণের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগি। অভিযোগ সূত্রে আরোও জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নে জলমহল চাপুন দহ বিল, আত্রাই বিল ও ছেড়াছেড়ির বিল, প্রকাশ্যে খাস আদায়ের নিলাম দেয় পীরগঞ্জ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা। মাছ চাষের জন্য চাপুন দহ বিলের ২লক্ষ ২০হাজার টাকা সর্বোচ্চ ডাক দিয়ে একবছরের ইজারা নেয় মাহামুদুল হাসান ।

তিনি চুক্তি অনুসারে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করে ওই জলমহলে ১৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাছ চাষ করে বিলের পরিচর্যা করে আসে। চুক্তি অনুযায়ী ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২১৫দিন না যেতেই জলমহল খননের জন্য বিনা নোটিশে জোরপূর্বক লিজকৃত জলমহলের পানি পার্শ্ববর্তী নদীতে প্রবাহিত করে জলমহলের পানি শুকিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার মাছ নিধন করে বিল খননের কাজ শুরু করে জেলা মৎস্য অফিস। ইজারাদার মাহামুদুল হাসান জানান, বৈশাখ মাসের টেন্ডার ভাদ্রের শেষে দিয়ে পুনরায় বৈশাখ থেকে বৈশাখ হিসাব ঠিক রেখে ইজারাদারকে ১২মাসের ইজারার চুক্তি করে ৫মাস হিসাব গড়ি মসি করে ভুমি কর্মকর্তা । এছাড়াও বিনা নোটিশে গত ২৮/০২/২১তারিখে লিজকৃত জলমহলের পানি শূন্য করে জলমহলের খনন কাজ শুরু করে মৎস্য বিভাগ। এতে করে আমার ১৫ থেকে ২০লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এনজিও থেকে লোন ও ধার দেনা করে মাছ চাষ করি। এখন এনজিও লোন কিভাবে পরিশোধ করব। আমি মাছ আহরণের জন্য ২০২১ সালে ২৪ মার্চ ভুমি কর্মকর্তা কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি । এখন আমি নিঃস্ব। পথে বসা ছাড়া কিছু করার নেই।

পীরগঞ্জের উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার জলাশয় সংস্কারের পরিপত্রে মৎস্য বিভাগ খনন কাজ শুরু করেন। উপজেলা ভুমি কর্মকর্তার আলাউদ্দিন ভূঞা জনি বলেন, বিগত উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জলমহলটি লিজ দেন। তবে বৈশাখ থেকে বৈশাখ এক বছরের মেয়াদে এই সকল জলমহল গুলো ইজারা দেয়া হয়ে থাকে। সে অনুয়ায়ী অর্থ বছরের খননের কাজ শুরু করেছি। ইজারা নেয়ার জলমহলটি এক বছরের পূর্বে কিভাবে খননের কাজ শুরু করেন প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ভূমি কর্মকর্তা। সামনে আসেন সাক্ষাতে কথা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :