যশোরে দাম বেড়েছে চালের রেহাই পাচ্ছেন না ধনীরাও

মির্জা বদরুজ্জামান টুনু,যশোর

যশোরে বেশি দাম বেড়েছে গরিবের চালে, রেহাই পাচ্ছেন না ধনীরাও যশোরে বেশি দাম বেড়েছে গরিবের চালে, রেহাই পাচ্ছেন না ধনীরাওযশোরে গত এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে দু’ থেকে চার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, বেশি দাম বেড়েছে গরিবের মোটা চালে। বাদ যাননি ধনীরা। তাদের পছন্দের চিকন চালের দামও বেড়েছে। তবে, মোটা চালের তুলনায় কিছুটা কম। আড়তে কেজিতে এক টাকা বাড়লে খুচরা দোকানে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। গত কয়েক মাস ধরে চালের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একটিই মুখস্ত বক্তব্য, ধানের দাম বেশি বলে চালের দাম বাড়ছে। যদিও যশোরের ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে সারাদেশের মধ্যে যশোরে চালের দাম সবচেয়ে কম। অন্যান্য জেলায় চালের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি।

রোববার যশোরের চালের বাজার ঘুরে দেখাগেছে, ৩৮ টাকার মোটা চাল পাইকারি ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আর খুচরা দোকানে এই চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা কেজি দরে। মিনিকেট ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে আড়তে। আর পাইকারি বিক্রেতারা বিক্রি করছেন ৫১ টাকায়। সবশেষ খুচরা দোকানে ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা। বাসমতি আড়তে বিক্রি হয়েছে ৫৪-৫৫ টাকা কেজি দরে। পাইকারি বিক্রেতারা বিক্রি করছেন ৫৬ টাকায়। আর খুচরা দোকানে ৫৮-৫৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে প্রতি কেজিতে এক দু’ টাকা কম ছিল। যশোর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল সাহা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে, মোটা চালের দাম বেড়েছে বেশি। পাইকারি বাজারে কেজিতে দু’ টাকার মতো বেড়েছে। আর চিকন চাল প্রতি কেজিতে পাইকারি বাজারে বেড়েছে এক টাকা। ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানান তিনি। দাম বৃদ্ধির কথা জানান বড় বাজারের চয়ন ট্রেডার্সের মালিক চিত্ত পাল। যশোরের একমাত্র চালের আড়ৎ সোনালী স্টোরের ম্যানেজার মন্টু ও খলিল জানান, চালের দাম মূলত ঢাকায় বেড়েছে। যশোরে বাড়েনি বললেই চলে।

বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগান কমে গেলে দাম বৃদ্ধি পায়। চাহিদা বাড়লে মিলমালিকরা দাম বাড়িয়ে দেন। ম্যানেজার খলিল জানান, সারাদেশের মধ্যে এখনো পর্যন্ত যশোরে চালের দাম কম রয়েছে। ঢাকায় দাম বাড়লে অনেক জায়গায় এ নিয়ে না জেনে না বুঝে সমালোচনা শুরু হয়। রোববার বিভিন্ন খুচরা দোকানে গিয়ে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। খুচরা দোকানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়। এ দাম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন মন্টু নামে একজন খুচরা চাল বিক্রেতা। তিনি জানান, বর্তমানে মিনিকেট ৫৪, কাজললতা ৪৯-৫০, বাসমতি ৫৭-৫৮ টাকায় বিক্রি করছেন। মিলমালিকরা বলছেন, ধানের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। আর এ কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে তাদের কোনো কারসাজি নেই বলে দাবি করেছেন মিলাররা। ভোক্তারা বলছেন, ধানের দাম বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে ক্রমাগত চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনিক তদারকি না থাকার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ শামছুল ইসলাম, ইমন হোসেন, ইয়াছিন আলমসহ কয়েকজন ক্রেতার। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা হয়েছে। যারা অহেতুক দাম বাড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :