যাত্রাবাড়িতে অবৈধ আবাসিক হোটেলে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ

হাফিজুর রহমান

রাজধানী যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তার চারপাশে বেশ কিছু চিহ্নিত আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে চলছে দেহব্যবসা। চলছে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। এসব কর্মকান্ড অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট। পুলিশ বলছে এসবের তথ্য নেই তাদের কাছে। যাত্রাবাড়ির হাজ¦ী ইউনুস সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় হোটেল পপুলার, সামিউল্লাহ প্লাজার পঞ্চম তলায় সাইনবোর্ড বিহীন হোটেল, জনপদ মোড়ে আল-জাকির টাওয়ারের দ্বিতীয়, তৃতীয়,চতুর্থ তলায় হোটেল জবা সহ প্রায় কয়েকটি হোটেলেই কমবেশি অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। এই আবাসিক হোটেল গুলোতে একজন নারীর সাথে রাত কাটাতে হলে গুনতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। এবং দিনেও হাতিয়ে নিচ্ছে একজন নারীর দেহের বিনিময়ে হাজার টাকা। তাই বেশি অর্থ উপার্জনের লোভেই হোটেল মালিকদের এই জঘন্য কাজে লিপ্ত থাকা। হোটেল গুলোর দিকে দৃষ্টিগোচরে দেখা যায় উৎসূব মূখর কাষ্টমারদের ঢল। যাত্রাবাড়ির বেশীর ভাগ আবাসিক হোটেলগুলোর আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে নারীর দেহ ব্যবসা।

একবাক্যে হোটেলগুলোকে বলা যায় প্রকাশ্য পতীতালয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ অনেকেই হুঙ্কার দিয়ে জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। জানাযায় দেহ ব্যবসার জন্য প্রতিমাসে প্রশাসনের কিছু অসৎ সদস্যদের বড় অংকের উৎকোচ দিয়েই নির্বিঘেœ চলে এই অনৈতিক কার্যকলাপ। আরও রয়েছে নামধারী সাংবাদিক, স্থানীয় নেতা। যাত্রাবাড়ির মধ্যে সবচেয়ে বেশী দেহ ব্যবসার প্রসার ঘটেছে, পপুলার, জবা ও সামিউল্লাহ প্লাজার পঞ্চম তলায় সাইনবোর্ড বিহীন হোটেলটিতে। দেখা যায় হোটেল গুলোর রুমে বিভিন্ন সাজে মেয়েরা খদ্দরের অপেক্ষায় রয়েছে। এখানে দুই শিফ্টে মেয়েরা দেহ ব্যবসা করছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খরিদদার আসছে। পতিতাদের নিয়ে রাত্রি যাপনের জন্যেও রয়েছে নিরাপদ ব্যবস্থা। এসব অবৈধ কারবারিদের সাথে সখ্যতা রয়েছে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, নামধারী সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। ফলে এই বিষয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেলের কয়েকজন কর্মচারী জানান, এসব হোটেলে দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক বেচাকেনা, জুয়া খেলা, সন্ত্রাসীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে রফাদফার মত কাজও চলছে।

নিয়মানুযায়ী হোটেলে যে কোনো বর্ডারের আগমন হলে তাদের সঠিক ঠিকানা যাচাই করে তাদের রেজিষ্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করা ও ছবি তুলে রাখার কথা থাকলেও অভিযুক্ত হোটেল কতৃপক্ষ মানছে না এই নিয়মনীতি। কয়েকবার পুলিশ ও র‌্যাব বন্ধ করে দিয়েছিল এ হোটেল গুলো। পুণরায় চলছে তাদের এই দেহ ব্যবসা। পুণরায় চলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন প্রশাসন, নেতা ও সাংবাদিকদেও ম্যাইেৎ করেই চালাচ্ছে তারা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে দেহ ব্যবসায়ী সহ হোটেল মালিকদের নাম, জানাযায় যাত্রাবাড়ির হাজ¦ী ইউনুস সুপার মার্কেটে হোটেল পপুলার ও সামিউল্লাহ প্লাজার পঞ্চম তলায় সাইনবোর্ড বিহীন হোটেলের মালিক ডিবির ক্যাশিয়ার নাসিমের ড্রাইভারের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন, সদরঘাট এলাকার যুবলীগ নেতা পাপন, যাত্রাবাড়ির সাইদুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, হোটেল ম্যানেজার ফারুক। জনপদ মোড়ে আল-জাকির টাওয়ারে হোটেল জবার মালিক সায়েদাবাদের রতন ও গুলিস্তানের মুহম্মদ আলী সহ অনেকে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :