যুবলীগ নেতা খালেদের সহযোগী গাজী মুক্তার হোটেল বয় থেকে শত কোটি টাকার মালিক

স্টাফ রিপোর্টার

বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদের সহযোগী গাজী মুক্তার এক সময় ছিল গুলশানের একটি আবাসিক হোটেলের হোটেল বয়। সরকার দলীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এখন বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপহেলার জহিরাবাদে। তিনি জাহিরাবাদা ইউনিয়ন পরিষদ আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিলেন। পরে তাকে বহিস্কার করা হয়। এলাকায় রয়েছে তার নিজস্ব ক্যাডারবাহিনী। যা দিয়ে চাঁদাবাজী, মাদক ও ক্যাসিনো কারবার পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে
মতলবের স্থানীয়রা জানান, তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে ক্যাডারবাহিনীর মাধ্যমে হুমকি-ধামকি অথবা মারধর করে মুক্তার বাহিনী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার বালুর মাঠ এলাকাতে নূর মসজিদের পাশে প্যারাডাইজ ভবনে মদের বার বসানোর।

যার প্রতিবাদ করে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মদের বার বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে ফের মদের বার চালুর পাঁয়তারা করছে গাজী মুক্তার।
তার বিরুদ্ধে রাজধানীর আরামবাগে ক্লাবপাড়ায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি বৈধ অবৈধ মদের বার চালান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। সরকার ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করলে গাজী মুক্তার দেশের বাইরে আত্মগোপন করে।
ঢাকার উত্তরায় ইবনে সিনা হসপিটালের সামনে কিং ফিশার, মিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্স ৮ম ও ১০ম তলায় (শাহ-আলী মাজারের কাছে) ডিসকো মদের বার, গুলশান-২ এলাকায় ইউনাইটেড হসপিটালের সামনে কোরিয়ান ক্লাব ও ৪৩ নন্বর রোডে অবস্থিত হোটেল ‘লেক ভিউ’ প্লাজাসহ রাজধানীর অনেক এলাকায় নামে-বেনামে মাদক ও মদের কারবার রয়েছে তার।

এ নিয়ে লেক ভিউ প্লাজার মালিক নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙুর জানান, তার কাছ থেকে ভবনটি ভাড়া নিয়ে সরকার দলীয় প্রভাব বিস্তার করে হুমকি দিচ্ছে। ভবন ভাড়া নিয়ে ভাড়া পরিশোধ না করে, উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে গাজী মুক্তার।
এদিকে নিজ এলাকা চাঁদপুরের মতলবে বেড়েই চলেছে গাজী মুক্তার নামের আতঙ্ক। জমি দখল, ধরে নিয়ে নির্যাতন সহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অবৈধ কার্যক্রম। গাজী মুক্তারের পেটুয়া বাহিনীর আতঙ্কে দিশেহারা ওই অঞ্চলের মানুষ। টাকার বিনিময়ে দলীয় লেবাসে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত গাজী মুক্তারের কারণে উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজী মুক্তার আগে গুলশানে একটি আবাসিক হোটেলে বয় হিসেবে চাকরি করতো। পরে যুবলীগ নেতা খালেদ সম্রাটের সঙ্গে তার সখ্য হয়। অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানীতে বানান অভিজাত বাড়ি, কিনেন বিলাসবহুল গাড়ি। অবৈধভাবে মদ ও ইয়বাসহ মাদকদ্রব্য বিক্রি করে গঠন করেছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী।
সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) মতিঝিল শাখা থেকে ১৭ কোটি টাকা ঋণ নেয় মুক্তার গাজী। ওই ঋণের জামানত হিসেবে দেখানো হয়েছে নদীতে বিলীন হওয়া জমি ও একটি টিন শেড ঘর। বর্তমানে সেই ঋণ সুদে আসলে ৪০ কোটি টাকারও বেশি। ওই ব্যাংকের অসাধু কিছু কর্মকর্তা এই অপকর্মে জড়িত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :