রংপুরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বিএনপিতে ভেড়ানোর অভিযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

হারুন-অর-রশিদ বাবু(রংপুর):
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দলীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও রংপুরের পীরগাছায় সুযোগ সন্ধানী কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপিতে ভেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ৩৬ জুলাই ছাত্রজনতার বিপ্লবের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকেই, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রঙ বদলে বিএনপিতে ভেড়ার চেষ্টা করেছেন ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতারা। এই তালিকায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতারা ছাড়াও তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, আওয়ামী লীগের নেতাদের বিএনপিতে ভেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার বিরুদ্ধে। অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে, দেশকে অস্থিতিশীল করাসহ এজাহার নামীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রেপ্তার কার্যক্রম চললেও একই দলের একাধিক নেতাকে বিএনপিতে পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পীরগাছা উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে, দলটির উপজেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা, উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও আওয়ামী লীগের অর্থের যোগানদাতা সোহাগ মিয়া, শাকিল মিয়া, পীরগাছা সরকারি কলেজ ছাত্র লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান (ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন) পীরগাছা সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আকবার আলী, নুরুল হক ও মনজিলকে ফুলের মালা পড়িয়ে বিএনপিতে পুনর্বাসন করেন।
বিএনপি নেতা রাঙ্গার সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ায় বিএনপিতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নজরে আসে। এতে বিএনপি নেতারা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এ নিয়ে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পীরগাছা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক রবিউল ইসলাম রবি, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও দিয়ে লিখেন “যুবলীগ ছাত্রলীগ থেকে! বিএনপিতে যোগদান সোহাগ ও বুলেট ভাইয়ের নেতৃত্বে”। মুহুর্তেই তার সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়। এতে উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী সমর্থকরা মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অঃধঁষ ঝুঁধহ নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, এই দোষরদের ঠাই দেয়াটা বিএনপির বড় ভুল হচ্ছে। এরাই আগামীতে ফণাতুলে কালসাপের মতো দাঁড়াবে সাবধান আওয়ামী লীগ। জধনরঁষ ওংষধস লিখেন, দলের বারোটা বাজাতে আর বেশীদিন সময় লাগবে না। চংঃ ঝযধযধৎরুধৎ ঔধযধহ লিখেন বিএনপি শরীরে জীবানু প্রবেশ করালো। গফ ঝড়সৎধঃ লিখেন, পীরগাছা কাউনিয়া থানার মানুষ যদি ভালো থাকতে চান, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নামক সন্ত্রাসকে ভোট দিবেন না। মো. রাসেল ইসলাম লিংকন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘বেশী না ৫ বছর পর আবার ১৭ বছর পালিয়ে থাকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সাপের বাচ্চা সাপই হয়।’ এবিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পীরগাছা উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের বিচারাধীন সময়ে আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন কোনভাবেই কাম্য নয়। শুধুমাত্র দলের রাজনৈতিক সুবিধার্তে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা অপ্রত্যাশিত। রংপুর জেলা জামায়াতের মানবসম্পদ বিভাগের সভাপতি, আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণ যোগ্য করার জন্য সরকার যখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করছে। ঠিক সেই মুহুর্তে বিএনপি তাদেরকে দলে নিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। এটি জুলাই চেতনার সাথে বেইমানি, জুলাই যোদ্ধাদের সাথে বেইমানি। বিএনপির এমন দ্বিচারি কর্মকান্ডের জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দিবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘আমি দলীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ আওয়ামী লীগের নীচু পদের লোকজনকে দলে নিয়েছি। কোন বড় পদধারীকে দলে নেয়া হয়নি। এদিকে রংপুর জেলা বিএনপির আহŸায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দলে অনুপ্রবেশের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ