রাজবাড়ীতে কেমিক্যাল রং ও কাঠের বার্নিশ দিয়ে আখের গুড় তৈরী

মোঃ ইউসুফ মিয়া, রাজবাড়ী

ছোট বেলায় থেকে জেনেছি নিজের চোখে দেখেছি আখ দিয়ে মেশিনে ভাঙ্গীয় বা মারাই করে রস ডোঙ্গায় চুলায় আগুন দিয়ে জালিয়ে আখের গুড় তৈরী করা হতো কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখি ডিজিটাল ভাবে তৈরী হচ্ছে ভেজাল গুড়। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মগবুলের দোকান নামক এলাকায় চিনি,আটা, ক্ষতিকর ধরনের রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে আখের গুড় তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে ।এ সকল নকল গুড় উ”চ দামে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে খাঁটি গুড়ের লেবেল লাগিয়ে। জেলায় আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর চোখে ফাঁকি বছরের পর বছর ভেজাল গুড় তৈরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্থানীয় চর ধোপাখালী গ্রামের গোলাম আলী শেখের ছেলে আফজাল শেখ। শনিবার দুপুরে চর ধোপাখালী আফজালের বাড়িতে গিয়ে কিভাবে ভেজাল গুড় তৈরি করার দৃশ্য দেখা হতবাক এলাকার জনগন। এলাকাসূত্রে জানাযায় আফজাল শেখ মাহে রমজানকে সামনে রেখে আটা, চিনি, কাঠের বার্নিশে ব্যবহার করেএবং মানবদেহের জন্য খুব ক্ষতিকর রং ও রাসায়ানিক কেমিক্যাল দিয়ে দিদাচ্ছে ভেজাল আখের গুড় তৈরি করে আসল গুড় হিসেবে অধিক মূল্যে বাজারে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য রেডি করেন। এতে করে রোজাদার ব্যাক্তিগনেরা সারাদিন রোজা রেখে এমন ক্ষতিকর রং দিয়ে তৈরির গুড়ের শরবত খেলে রোজাদার ব্যাক্তিরা অসুস্থ্য হয়ে পরবেই এবং সাধারণ মানুষ প্রতারিতসহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেখার কেহ নাই। স্থানীয় জনগণেরা আরো জানান এই গুড় তো জেলার বিভিন্ন গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ে বিক্রি করেন সেই গুড় ব্যবসায়ীরা জানেনা রং বা রাসায়নিক দিয়ে গুড় তৈরী করেন। এই গুড় ব্যবসায়ী আফজাল শেখ জেলার রাজবাড়ী বাজার গোয়ালন্দ বাজার, খানখানাপুর বাজার, বসন্তপুর বাজার, আরিফ বাজার, আনন্দ বাজারসহ এ অঞ্চলের প্রধান প্রধান বাজারে গুড় সরবরাহকরে ।

ভেজাল আফজাল তিনি প্রতিনিয়ত শতশত কেজি ভেজাল গুড় উৎপাদন করে চলেছেন।ভেজাল গুড় তৈরির অপরাধে ইতিপূর্বে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন। এরপর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সামনে রোজাদার ব্যাক্তিদেরকে ঠকিয়ে কিভাবে টাকা কামানো যায় সেই লক্ষে আবারো ভেজাল মন নিয়ে শুরু করেছেন পুরোদমে গুড়ের ব্যবসা। ক্ষতিকারক ভেজাল গুড় প্রস্তুতকারী আফজাল শেখ বলেন, আমি রাজবাড়ী জেলার পাংশা ও নারুয়া থেকে তিনি বেশী করে এক জ্বাল দেয়া ট্রাক ভর্তি করে পুরাতন আখের গুড় নিয়ে আসি। গুড় তৈরির ক্ষেত্রে তিনি ৫০ কেজি পরিমান সেই গুড় ও ২৫ কেজি সাদা চিনি ব্যাবহার করেন।অতঃপর গুড়-চিনির মিশ্রন আগুনে জালিয়ে টিনের ছোট ছোট গ্লানে গুড় তৈরি করেন। এতে মিষ্টিতে যে রং ব্যবহৃত হয় সেই রং ব্যবহার করেন তিনি। এছাড়া কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না বলে তার দাবী । এক-তৃতীয়াংশ সাদা চিনি মেশানোর ব্যাপারে তিনি দাবী করেন,এটা তিনি কতৃপক্ষকে জানিয়েই মেশান।এতে গুড় শক্ত ও সাদা হয়।গুড় তৈরির জন্য তার লাইসেন্স রয়েছে বলে মুখে বলেন কোন প্রকার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্যানেটারী ইন্সপেক্টর বাবু সূর্য্য কুমার প্ররামানিকের কাছে দিয়েছেন বলে জানান। তবে গুড় তৈরির চুলায় ও পাশে গুড়ের সঙ্গে কেমিক্যালের মিশ্রণ দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর বাবু সূর্য্য কুমার প্রামাণিক বলেন, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যের সঙ্গে ক্যামিক্যালের মিশ্রণ করা গুরুতর অপরাধ। ইতিপূর্বে ভেজাল গুড় তৈরীর অপরাধে এই আফজালকে জরিমানা করা হয়েছে। আবারো রোজার আগে আমরা ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে। খাদ্যে ভেজাল দিলে এ কাজে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না তাকে আইনের আওতায় এনে সাজা কার্য্যকর করা যেতে পারে।

 

আপনার মতামত লিখুন :