রাজশাহীতে নকল ওষুধ কারখানার সন্ধান: গ্রেফতার ২

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীতে নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে নগরীর ছোটবনগ্রাম চন্দ্রিমা আবাসিক-১ সংলগ্ন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দ করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় আটক করা হয় নকল ওষুধ তৈরি কারখানা মালিক নগরীর ছোট বনগ্রাম এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে আনিস (৪৬) ও জামালপুর এলাকার আনসার আরীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২)। এ নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে আরএমপি সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন আরএমপি কমিশনার মো: আবু কালাম সিদ্দিক। এসময় মহাননগর পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরএমপি কমিশনার মো: আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, বাজার থেকে পাতা খুলে নকল ওষুধ পাচ্ছেন ক্রেতারা, যা একটি বড় ধরনের প্রতারণা। এতে রোগীর রোগ তো ভালো হচ্ছে না, উল্টো ভেজাল ওষুধ খেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাই কিছুদিন ধরে আমরা এমন ভেজাল ওষুধ ও পণ্য উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছিলাম।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালায়। তিনি বলেন, ওই বাসাটি মূলত নকল ওষুধ তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ, ওষুধ তৈরির উপকরণ এবং মেশিন পাওয়া গেছে। মূলত ঢাকা থেকে ওষুধের কাঁচামাল আনতেন আনিস। তার সঙ্গে বিভিন্ন কেমিকেল মিশিয়ে নামিদামি কোম্পানির নকল ওষুধ তৈরি করতেন। পরে তা পৌঁছে দিতেন নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কারখানা মালিক জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা হতে কাঁচামাল এনে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির বহুল ব্যবহৃত নকল ওষুধ তৈরি করতেন। পরবর্তীতে তারা তৈরি নকল ওষুধ বিভিন্ন ফার্মেসীতে পৌঁছে দিতো এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতো।

জব্দকৃত নকল ওষুধের মধ্যে রয়েছে- ফয়ার কোম্পানির নকল সেকলো ১৮৬৪ প্যাকেট, মূল্য অনুমান-১৩,৪২,০৮০/-, এস.বি-ল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল চড়বিৎ-৩০ (মোড়কসহ) ৭৬৯ প্যাকেট, মূল্য অনুমান-২,৬৯,১৫০/-, এস.বি-ল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল চড়বিৎ-৩০ (মোড়কছাড়া) ৫১৮৮ প্যাকেট, মূল্য অনুমান-১৮,১৫,৮০০/-, এস.বিল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল চড়বিৎ-৩০ (সবুজ রং) ৬৫ পাতা, মূল্য অনুমান-২২,৭৫০/-, এস.বিল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল চড়বিৎ-৩০ (খোলা) ১৬ কেজি, মূল্য অনুমান-১০,৬৪,০০০/-, নাভানা কোম্পানির নকল পিজোফেন ১৩৫৬ পাতা, মূল্য অনুমান-৯৪,৯২০/-, রিলায়েন্স কোম্পানির নকল ইলিক্সিম ১২৫ পাতা, মূল্য অনুমান-১৭,৫০০/-, রিলায়েন্স কোম্পানির নকল রিলাম ২২ পাতা, মূল্য অনুমান-১,১০০/-, স্কয়ার কোম্পানির নকল সেকলোর খালি মোড়ক ০৬ বন্ধ, মূল্য অনুমান-৩০,০০০/- ও ভেজাল ওষুধ তৈরির মেশিন বিলিস্টার। মেশিনের মূল্য অনুমান-২২,০০,০০০/-, কমপ্রেশার মেশিন মূল্য-২,৪০,০০০/-, সর্বমোট মূল্য ৭০,৯৭,৩০০/- টাকা।

 

আপনার মতামত লিখুন :