মোহাঃ আলী আশরাফ রাজশাহী থেকে ফিরে-
রাজশাহী টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ঘিরে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের মুখ দেখলেও সেই তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েই এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও তদন্ত কার্যক্রম একদিনে শেষ করে চলে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহল ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, রাজশাহী টিটিসিতে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিএমইটি (বুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং)এর উপপরিচালক মো. আব্দুল গাফফারকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে একদিনেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন। অথচ এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, লোক দেখানো তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তদন্ত নিয়েই সন্দেহ :
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে বড় পরিসরের অনিয়ম ও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীদের নাম উঠে আসতে পারে। সে কারণেই তদন্ত কার্যক্রম কার্যত শুরু হওয়ার আগেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে কি নাএ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন,আমরা ভেবেছিলাম তদন্ত কর্মকর্তা এলে সত্য বের হবে। তদন্ত একদিনে শেষ হওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। তাহলে কি আদৌ কোনো বিচার হবে?
অভিযোগের পাহাড়:
রাজশাহী টিটিসিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্টোর ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে স্টোরে মাল ক্রয় না করেও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল উত্তোলন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাতিল রেজুলেশন খাতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ক্রয়কৃত মাল এন্ট্রি যে দোকানের ভাউচার দেখানো হয়েছে, সেই দোকানে সংশ্লিষ্ট মাল বিক্রিই হয়নি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা কর্তন ও আত্মসাত প্রকল্পের অর্থ ভাগ–বাটোয়ারার অভিযোগ প্রশিক্ষণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, কর্মস্থলে হয়রানি ও অফিস সহকারীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এসব অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে রাজশাহী টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুল ও হিসাবরক্ষক ফরহাদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন,ডিজি অফিসে মাষ্টাররোলে নিয়োগ দিয়ে চার-পাঁচ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। সেগুলো কি আপনারা দেখেন না? সেখানে গিয়ে প্রশ্ন করেন, এখানে কেন? এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন:
তদন্ত কর্মকর্তা একদিনে তদন্ত শেষ করলেন এবং কেন এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি এ বিষয়ে বিএমইটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগ গুরুতর হলে তদন্তে স্বচ্ছতা ও গতি থাকা জরুরি। বিলম্ব বা অসম্পূর্ণ তদন্ত হলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
স্বচ্ছতার বড় পরীক্ষা:
রাজশাহী টিটিসির এই অভিযোগ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের চিত্র নয়, এটি রাষ্ট্রীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিরও বড় পরীক্ষা। দ্রæত নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হলে অভিযোগগুলো যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকবে, তেমনি আস্থা সংকট আরও গভীর হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ