রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে একইদিনে টিকা নেয়ার আহ্বান জাপা এমপির

স্টাফ রিপোর্টার

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সব সংসদ সদস্যদের একইদিনে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক। কোভিডের টিকা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় দূর করতে এই আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্য এবং সব সংসদ সদস্য- সবাই একদিনে ভ্যাকসিন নিলে কারো মধ্যে আর ভ্রান্তি থাকবে না।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

মুজিবুল হক অর্থখাতের সমালোচনা করে বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা নিয়ে কথা এসেছে। পিকে হালদার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা মেরে দিলেন। তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। বাংলাদেশ ব্যাংক করেটা কি? হলমার্ক শত কোটি টাকা পাচার করেছে। বাংলাদেশে ব্যাংক কি দেখে না?’

তিনি বলেন, গুরু ছাড়া দুর্নীতি হয় না। ব্যাংক খাতের এসব দুর্নীতির গুরু হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের কারণে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির এই এমপি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ আসে শুধু রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে। কানাডার বেগম পাড়ায় ২৮টি বাড়ির মধ্যে ২৪টা বাড়ি সরকারি কর্মচারীদের। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমলারা কি সবকিছুর ঊর্ধ্বে? কোন কর্মকর্তার ছেলেমেয়ে বিদেশে পড়ে না?

রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘স্বীকার করবো সরকার উন্নয়ন করেছে। অনেক উন্নয়ন করেছে। এরশাদ সাহেব যখন ক্ষমতায় ছিলেন তিনিও করেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার বাইরেও অনেক কিছু আছে। কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে- এ বিষয়ে গাইডলাইন ভাষণে আশা করেছিলাম। সেটা নেই। আমার এলাকায় কৃষক সবজি উৎপাদন করে। খিরাই এক টাকা কেজি, ফুলকপি ২ টাকা, কেউ নেয় না। সবজির মৌসুমে সেগুলোর মূল্য পায় না। পঁচে পড়ে থাকে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টসে রফতানির অর্ধেক হয় ইউরোপে। আমরা সেখানে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছি। ২০২৩-এর পরে এই সুবিধা থাকবে না। জিএসপি প্লাস হবে, সেটা পেতে মানবাধিকারসহ ১৭টি শর্ত দিয়েছে। মানবাধিকারকে বেশি গুরুত্ব দেয়। উন্নত করতে না পারলে প্লাস পাবো কি না সন্দেহ আছে।

বিভিন্ন খাতের দুর্নীতির কথা তুলে ধরে চুন্নু বলেন, ‘রাস্তাঘাটে অনেক মোটরসাইকেল। কোনো ট্রেনিং নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের কথা কি বলবো! কেনাকাটার কি যে অবস্থা! ১০০ টাকার জিনিস ৫০০ টাকা। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২৬২ গাড়ির হিসাব নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :