লৌহজংয়ে পদ্মার পানি ঢুকে কয়েক শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত

সাইফুল ইসলাম,মুন্সিগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মার তীরে বাঁধ না থাকায় মেদেনীমÐল ইউনিয়নের দুটি গ্রামের শতাধিক বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। সেইসাথে মাওয়া থেকে যশলদিয়া এবং মাহমুদপট্টি থেকে কান্দিপাড়া ও মাওয়া যাওয়ার তিনটি সড়ক ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারীরা।
স্থানীয়রা জানায়,দক্ষিণ মেদেনীমÐল গ্রামের পদ্মার তীরে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের একটি জমি রয়েছে। সে জমি এখন পানির নিচে। জমির উত্তর পাড়ে কোন বাঁধ ছিল না। পদ্মার পানি ও তীব্র স্রোত বৃদ্ধি পেলে তা গত ২৮ জুন দক্ষিণ মেদেনীমÐল ও মামুদপট্টি গ্রাম দুটিতে পানি প্রবেশ করে।

এর এরপর ধীরে ধীরে ওই দুটি গ্রামের কয়েক শতাধিক বাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। পানির তীব্র স্রোতে গত ৬ দিন আগে মাওয়া-যশলদিয়া-ভাগ্যকূল সড়কটি পানিতে ডুবে গেছে। মাওয়া-কান্দিপাড়া এবং মাহমুদপট্টি-কান্দি পাড়া সড়ক দুটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে করে চরম দুর্ভোগে আছেন তারা। গতকাল বুধবার সকালে দক্ষিণ মেদিনিমন্ডল এলাকার মাওয়া-যশলদিয়া-ভাগ্যকূল সড়কে দেখাযায় সড়কটি পানিতে তলিয়ে আছে। সড়কটির উপর দিয়ে পানির তীব্র স্রোত বয়ে যাচ্ছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর মধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেটে যাতাযাত করছেন পথচারীরা। এসময় আলী আজগর নামে একজন জানান,সে যশদিয়া মসজিদের ইমাম। প্রতিদিনই এ পথে যাতায়াত তার। কয়েক দিন আগেও অটোতে করে আসা যাওয়া করতেন।

বন্যার পানিতে রাস্তাটি ডুবে গেছে। বাধ্য হয়ে পানিতে ভিজে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে তাকে। লৌহজং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান জানান, যে স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে সেটা পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায়। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে জিও ব্যাগ ফেলতে পারছেনা। এ বছরটা একটু কষ্ট হবে। আগামী বছর স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করবে চায়না কোম্পানী। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেঙে যাওয়া সড়ক গুলো দ্রæত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে।

যে স্থান দিয়ে পদ্মার পানি প্রবেশ করে গ্রাম রাস্তা প্লাবিত হয়েছে, সেখানে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করা হবে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন ও বন্যার পানি থেকে রক্ষা করতে, লৌহজংয়ের মাওয়া থেকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় পর্যন্ত বড় ধরনের একটি বাঁধের কাজ চলছে। খুব শ্রীগই এর কাজ শেষ হবে। তিনি আরো বলেন,তার জানামতে প্রায় ২শ পরিবার পানি বন্দি আছে। এই পরিবার গুলোকে সহযোগিতার জন্য ২০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিরাপদ পানি ও অন্যান্য শুকনো খাবার এবং ওষুদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :