শতভাগ রাজস্ব আদায়ে বাকেরগঞ্জ ভূমি অফিসের সফলতা

মোঃ বশির আহমেদ

সরকারের রাজস্ব আদায়ে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে নজির সৃষ্টি করেছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস। মূলত ই-নামজারী ভূমি উন্নয়ন কর, কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত, অর্পিত সম্পত্তি ইজারা প্রদান ও নবায়ন, জলমহাল বন্দোবস্ত, খাল পুকুর ইজারা প্রদান এবং ভিপি সম্পত্তি লিজ নবায়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা রাজস্ব কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, উপজেলায় ই- নামজারীর আবেদন গ্রহন করা হয়েছে মোট ৫ হাজার ৫৪৩ টি। এর মধ্যে আবেদন নিস্পত্তি করা হয়েছে ৫ হাজার ৪২৬ টি। যা শতকরা হিসেবে ৯৮ ভাগ। ২০১৯- ২০২০ অর্থ বছরে উপজেলার এলটি ট্যাক্স বা ভূমি উন্নয়ন কর সাধারন এবং সংস্থার আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিলো ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৭ টাকা । আদায় হয়েছে ৫৮ লাখ ৪২ হাজার ৩শ’ টাকা যা। শতকরা হিসেবে ৯৭ দশমিক ৫২। ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তির নবায়ন কর আদায়ের লক্ষমাত্রা ছিল ৭ লাখ ১১ হাজার ১৭৫ টাকা, আদায় হয়েছে ১১ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৭ টাকা। যা শতকরা হিসেবে ১শ’৬৩ ভাগ। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত আদায়ের কারন নতুন পরিপত্রে প্রায় ৪ গুন ইজারা টাকার হার বাড়ানো হয়েছে। ২১ টি রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা দায়ের বাবদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১লাখ ২৮৮ টাকা।

যার মধ্যে ২০ টি মামলার নিস্পত্তি বাবদ আদায় হয়েছে ৯০ হাজার ৭৮৯ টাকা। যা শতকরা হিসেবে ৯৫ ভাগ। এছাড়াও উপজেলার ১৮ টি হাট বাজারের ১ হাজার ৩৪ টি চান্দিনা ভিটির মধ্যে ৩৪৯ টি ইজারা বাবদ আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭৪ টাকা। বকেয়া দাবি রযেছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮০ টাকা। যা চলমান করোনা মহামারির কারনে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার খাল পুকুরের মধ্যে ১৭ টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ইজারা প্রদান করা ৯ টি ঘরের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬২৯ টাকা। বাকি ৮ টি ঘরের ইজারা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও বরিশাল জেলায় বালুমহাল রয়েছে ৪ টি। যার ৩ টি বাকেরগঞ্জ উপজেলাতে অবস্থিত। এই ৩ টি বালু মহল হতে ডিসি অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক ৮৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৭ লাখ টাকা বেশি। আড়াইশ’ পরিবারের মাঝে মোট ১৩০ একর কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। যেখানে সাধারনত লক্ষ্যমাত্রা থাকে ৪৮টি পরিবার।

দেশ জুড়ে করোনা মহামারি না হলে কর আদায়ের সার্বিক হার কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেত বলে জানান সফল এ কর্মকর্তা। করোনার এই সময়ে এমন সফলতার পিছনে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া উপজেলা রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি অত্র এলাকায় দায়িত্ব গ্রহনের পর হতেই জনগনের কাঙ্খিত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বেশ কিছু ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহন করি। যার মধ্যে রয়েছে হাটে বাজারে গিয়ে নিজেই ইজারা নবায়ন করে দেওয়া। ভূমিকর প্রদানে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করা। এ ছাড়াও সকল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে শতভাগ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য করোনার এই দূর্যোগেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হোমকোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন নিশ্চিত করা এবং মোবাইল কোট পরিচালনার পাশাপাশি রাজস্ব কর্মকর্তার দাযিত্ব পালন করতে হয় উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার বা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে। এমতাবস্থায় করোনার মাঝেও ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছেন সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। তার এই প্রচেষ্টায় দেশ ও উপজেলাবাসি উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :