সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী বড় বোনের অভিযোগ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের দু শিশুসহ মাকে ২০ মাসেও ফিরে পায়নি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের দু শিশুসহ মাকে ২০ মাসেও ফিরে পায়নি পরিবার। বোন ও বাচ্চাহারা কুলসুমের পরিবারের কান্না আজও থামছে না। ছোট বোন রাজিয়া ও তার শিশু বাচ্চাদের ফেরত এবং অপরাধী সোহেলেকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ রিপোটার্স ইউনিটির অস্থায়ী কার্যালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুলিয়ারচর উপজেলার বাজরা এলাকার প্রতিবন্ধী কুলছুম বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছোট্ বোন রাজিয়া আক্তার একই উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের মৃত হিরু মিয়ার পুত্র সোহেলের নিকট বিবাহ দেই। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি মেয়ে ও একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের পর থেকেই আমার বোনকে প্রায় সময় শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্্রাইবুন্যালে ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল একটি মামলা (৪৫/২০১৮) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মামলাটি আপোষ হলেও সে ক্ষান্ত হয়নি। বাচ্চাদের দিকে থাকিয়ে নীরবে সব সহ্য করে যাচ্ছিল বোন। ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ২০ তারিখে সু পরিকল্পিতভাবে সোহেল ও তাঁর আরেক স্ত্রীসহ পরিবোরের সদস্যরা আমার বোন ও বাচ্চাদের হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে আমি বিশ^াস করি। তাই সোহেলের পরিবারের ১০ জনকে আসামী করে কিশোরগঞ্জ আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়িাল আদালত নং-২ এ একটি মামলা দায়ের (নং-২৩৩/১৯) করি। আমার বোন ও বাচ্চাদের এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। অনেক খোাঁজাখোঁজি কওে না পেয়ে কুলিয়ারচর থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-১০২০/১৯) দায়ের করি। এরই মাঝে আমার বাড়িতে হামলা করেছে মামলার আসামীরা। এ বিষয়ে আমি ভৈরব সার্কেলকেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোনো ফল পায়নি। মামলা দায়ের করার পরও আজ পর্যন্ত আমার বোন ও বাচ্চাদের কোন খোঁজ খবর দিতে পারেনি পুলিশ। আসামীদেরকেও আটক করা যায়নি। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। কোনো উপায় না পেয়ে আজ গনমাধ্যমের দারস্থ হয়ে আপনাদের মাধ্যমে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই আমার বোন ও তার বাচ্চাদেরকে ফিরিয়ে দিন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদেরকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান তিনি। এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ একে এম সুলতান মাহমুদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিখোঁজ রাজিয়া ও তার শিশু বাচ্চাদেরকে সারা বাংলাদেশে খোঁজেও পায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :