মো.ইউসুফ আলী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার দীর্ঘ পথচলা শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার সকালে। ফলে ঢাকাসহ পুরো দেশ এখন নির্বাচনি আমেজে রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন। ফলে ভোট উৎসবের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। এ উৎসবে যোগ দিতে আরো দু’একদিন আগে থেকেই ঢাকা ছাড়ছেন ভোটাররা। গতকাল ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় পৌছেছেন ভোটাররা। গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর মহাখালি, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় বাড়ি ফেরা মানুষের উপড়ে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া, সদরঘাট ও কমলাপুর রেল স্টেশনেও ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে। ফলে গতকাল থেকেই বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে উপচে পড়া ভির দেখা গেছে। ভোটাররা ঢাকা ছাড়ায় গতকাল অন্যান্য দিনের তুলনায় রাজধানীর সড়কগুলো ফাঁকা দেখা গেছে। তবে ঢাকার নির্বাচনি এলাকাগুলোতে উৎসবের পাশাপাশি উত্তেজনাও বিরাজ করছে। কারণ বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতসহ নানা অঘটন ঘটায় এখন নির্বাচনি আমেজের পাশাপাশি আতঙ্কেও রয়েছেন ঢাকার ভোটাররা। রাজধানীর ভিবিন্ন এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভোট দিতে একটি শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ চায়। তারা দাবি জানিয়েছেন, তারা যেনো কোনো বাধা ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। তবে ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করতে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ করেছে। ইতিমধ্যে দেশের সকল জেলায় ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবারের মধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে ব্যালট পেপার।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন নাগরিক। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২২০ জন ভোটার তাদের অধিকার প্রয়োগ করবেন। অপরদিকে এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি বড় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী প্রধান দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপি,জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট,বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি,বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ,খেলাফত মজলিস,এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, জেপি, গণসংহতি আন্দোলন অন্যতম। তবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের সঙ্গে মূল ব্যালট যুদ্ধ হবে জামায়াতের দাঁড়িপাল¬া প্রতিকের সঙ্গে।
নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিব, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা ভিত্তিক কাজ করবে। আর উপকূলীয় এলাকার জন্য কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে। এতে আরও বলা হয়, সকল বাহিনী রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে। এ ছাড়া তার নির্দেশ এবং পরামর্শ অনুসারে সবাই দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ঢাকাসহ সারা দেশে ভোট হবে সুন্দর, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর। ইতিমধ্যে জেলা থেকে ব্যালট পেপার উপজেলায় পৌঁছে গেছে। আজ বুধবারের মধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার। সকাল থেকে ব্যালট দেওয়ার কাজ শুরু করবো। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, দেশীয় পর্যবেক্ষক ৪৫ হাজার ৩১৩ জন, বিদেশি ৩৫০। বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন ১৫৬ জন। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।
উল্লেখ্য: টানা ৩৬ দিনের ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনে ২০২০ সালের ৫ আগষ্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ঐ বছরের ৮ আগষ্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনিত হন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে নানা বিষয়ে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে সংস্কার প্রক্রিয়াতে আরো বেগবান করতে আগামী কালের ভোটের সঙ্গে এবার অনুষ্টিত হবে গণভোটও।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: জাতীয় সংবাদ, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম