মো: আলী আশরাফ :
সমবায় অধিদপ্তরে পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। সহকারী পরিদর্শক থেকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্য, শূন্যপদ গোপন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তারা। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত নিবন্ধক মোহাম্মদ হাফিজ হায়দার, যিনি চলতি মার্চ মাসে পিআরএলে যাওয়ার আগে দ্রæত পদোন্নতি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী পরিদর্শক থেকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতির সভা দুই মাস আগে অনুষ্ঠিত হলেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে বিষয়টি প্রশাসন শাখা থেকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রথমে ৭৯টি শূন্য পদ দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও পুনরায় যাচাইয়ে ১৩৭টি পদ খালি থাকার তথ্য উঠে আসে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ যাচাই শেষ না করেই আবার ৭৯টি পদে পদোন্নতির সভা ডাকা হয়েছে।
পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের দাবি, পিআরএলে যাওয়ার আগে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট তালিকা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগকারীরা বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আগেই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই চাপেই সীমিত পদে দ্রæত পদোন্নতি সভা আহŸান করা হয়েছে। যাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি, তাদের নাম তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই প্রক্রিয়ায় যুগ্ম নিবন্ধক হেলাল উদ্দীন, অতিরিক্ত নিবন্ধক হাফিজুল ইসলাম ও উপনিবন্ধক সফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যুগ্ম নিবন্ধক হেলাল উদ্দীন চাকরিজীবনের শুরু থেকেই টানা প্রায় ২৪ বছর সমবায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি চাকরিতে নিয়মিত বদলির বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে অবস্থান করায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, প্রশাসন শাখা ও বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সমবায় অধিদপ্তরে কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি স্থায়ী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন,মোহাম্মদ হাফিজ হায়দার,হেলাল উদ্দীন,মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সফিকুল ইসলাম ও সহিদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বদলি, সংযুক্তি, পদোন্নতি ও প্রকল্প ব্যয়ের সিদ্ধান্ত এই গোষ্ঠীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। পদোন্নতি প্রত্যাশীদের অভিযোগ, প্রকৃত শূন্যপদের সংখ্যা কম দেখিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অতিরিক্ত শূন্যপদের তথ্য থাকা সত্তে¡ও তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়নি। তাদের মতে, এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে পূর্বে নিয়োগ বাতিল হয়েছিল। বদলি ও সংযুক্তি আদেশে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। অনুমোদিত পদ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কাঠামোগত দুর্নীতির কারণে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস তদন্ত, পদোন্নতির পূর্ণাঙ্গ পুনঃযাচাই এবং স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সমবায় অধিদপ্তরকে সিন্ডিকেটমুক্ত না করলে প্রশাসনিক সুশাসন ফিরবে না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: অপরাধ সংবাদ, দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম