সাতক্ষীরাবাসির স্বপ্নের বাইপাস সড়ক এখন দৃশ্যমান

আক্তারুজ্জামান আক্তারুল (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা বাসির স্বপ্নের বাইপাস সড়ক এখন দৃশ্যমান হয়েছে। এ সড়ক কে ঘিরে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক জোন হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরার হোয়াইট গোল্ড (সাদা সোনা) ও স্থল বন্দর ভোমরাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আনন্দের যেন সীমা নেই। অন্যদিকে সাতক্ষীরা শহর হচ্ছে যানযট মুক্ত অত্যাধুনিক মশৃন শহর।

বাইপাস সড়কের ১২.৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দু’পাশে বিভিন্ন শিল্প, কলকারখানা গড়ে উঠতে শুরু করেছে। শহরের পরিধি বাইপাস সড়কের কেন্দ্র করে কমপক্ষে ২০ টি গ্রামে আধুনিক সভ্যতার ছোয়াও লেগেছে।

সরেজমিন তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরার সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙ্গা এলাকার স্থল পথে যোগাযোগ থাকায় সাতক্ষীরার কৃতিসন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম আলাউদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রূপ নেয় ভোমরা স্থল বন্দর। বন্দরটি চালু হওয়ার পরে সার্কেল বন্দর হিসাবে রূপ পায় ০২/০৬/১৯৯০ সালে। এবং সার্কেল শুল্ক স্টেশন হিসাবে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয় ১৫/০৫/১৯৯৬ সালে। আমদানি-রপ্তানির শুভ উদ্বোধন করেন কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট খুলনাঞ্চলের কমিশনার জনাব মো: সাখাওয়াত হোসেন। ১৯৯৭-৯৮ প্রথম অর্থ বছরে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬৪২৭০০০/- অর্জিত হয় ৯৬৩৬১১৫৪/- টাকা। সেই থেকে আর এ বন্দরকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। সর্ব শেষ ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৮৭৩ কোটি টাকার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলে অর্জিত হয় ৮৬৪ কোটি টাকা।

এভাবে প্রতিবছরই বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম রাজস্ব আদায়ে ভোমরা স্থল বন্দর অগ্রনী ভূমিকা পালন করে চলেছে। এ বন্দরের পন্য আমদানি-রপ্তানির কাজে নিয়োজিত যানবহনের কারণে সাতক্ষীরা জেলা শহরে যানযট লেগেই থাকতো। সাতক্ষীরা বাসির একান্ত চাওয়া পাওয়াই ছিল সাতক্ষীরার বাইপাস সড়ক। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের মানুষের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মানে ৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। প্রকল্পের কাজ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান ১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এরই মধ্যে খুলনা-সাতক্ষীরা মহা সড়কের বিনেরপোতা বিসিক মোড় হতে খেজুরডাঙ্গী, দেবনগর, লাবসা, কাশিমপুর, মেহেদীবাগ, বক্চর, খড়িয়াডাঙ্গার মোজাফ্ফার গার্ডেন হয়ে বাকাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ সড়কে মিলিত হয়েছে। বর্তমান ১২.৩৫ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই মাটি ভরাট শেষে ৩৬টি কালভার্ট নির্মান সহ কার্পেটিং এর কাজ শুরু হয়েছে।

ফলে বাইপাস সড়ক এখন দৃশ্যমান। বড় যানবাহন যাতায়াত না করলেও ইতিমধ্যে ছোট ছোট যানবাহন যাতায়াত শুরু করেছে। এ সড়ক নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই চলাচলের উপযোগী হবে বলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টার প্রাইজের এক কর্মকর্তা এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম জানিয়েছেন সাতক্ষীরা বাসীর প্রানের দাবি সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক এখন দৃশ্য মান হয়েছে। নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই উদ্বোধন হতে পারে। এ সড়ক নির্মানে বিভিন্ন বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে ভূমি অধিগ্রহন থেকে শুরু করে দৃশ্যমান সড়কে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যহত ছিল।

তাই এ সড়ক বাস্তবায়ন হলে অন্যতম অর্থনৈতিক জোন হবে সাতক্ষীরা। এ বিষয়ে ভোমরা স্থল বন্দরের সিএনএফ এজেন্টস এ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানিয়েছেন বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন হলে স্থল বন্দরের অন্যতম রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে ভোমরা বন্দরে।

এ কারণে তিনি জানান, ভারত থেকে পন্য আমদানি-রপ্তানির জন্য সকল যানবাহনকে খড়কপুর এলাকায় মিলিত হতে হয়। আর খড়কপুর হতে ভোমরার দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। ফলে বাইপাস সড়কই সাতক্ষীরা উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার।

আপনার মতামত লিখুন :