সাবেক দলিল লেখক আনোয়ার দলিলের কারিশমায় এখন শত শত কোটি টাকার মালিক

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মোর্শেদ মারুফঃ

রাজধানী ডেমরার সাবেক দলিল লেখক আনোয়ার হোসেনের দলিলের কারিশমায় এখন বিলাসবহুল ভবন, টিনসেট মার্কেট, বাণিজ্যিক সম্পত্তি আর শত শত কোটি টাকার জমির মালিক।

গোপন সূত্রে জানা যায় স্থানীয়দের মুখে মুখে সে দলিল লেখক? নাকি ভূমি মাফিয়া চক্রের কোন মূল হোতা?

অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় রাতের অন্ধকারে সেই কালো টাকার লেনদেনের ছড়াছড়ি।

আরো জানা যায় রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে অবৈধ দলিলের মাধ্যমে জমি দখল করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন দলিল লেখক আনোয়ার হোসেন।

মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চায় না তার ক্ষমতার এতোই প্রভাব, স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও হয়নি পতন কিছু সরকারি কোষাগারের আমালাদের।

আনোয়ার হোসেনের এলাকার মানুষ বলছে আমরা দেখেছি সিনেমায় যা গল্প থাকে সেই ভিলেন চরিত্রে হুবাহুব কোন কমতি নেই দলিল লেখকের।

এই অস্বাভাবিক উত্থান আর অঢেল সম্পদের কাহিনি এখন যেন এক রোমাঞ্চকর থ্রিলারের পাতা উল্টে দেওয়ার মতো, যার শেষ কোথায়—তা কেউ জানে না!

রাজধানীর ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একের পর এক ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ দলিল লেখক থেকে অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি হয়ে উঠেছেন অঢেল সম্পদের মালিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও উপরের মহলে প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজের চারপাশে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানার ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় একটি বিলাসবহুল পাঁচতলা ভবনের মালিক, যার আনুমানিক বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

একই এলাকায় তার টিনসেট মার্কেট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি রয়েছে, যার মূল্যও কোটি টাকার ওপরে।

এছাড়া রয়েছে কার্টুন তৈরির কারখানা এবং রাজধানীর এশিয়ানটিক মার্কেটে একাধিক দোকান।

শুধু তাই নয়, রাজধানীর বাইরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় রয়েছে প্রায় ২৮ একর জমি যার বাজার মূল্য শত কোটি টাকারও বেশি বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

এতো সম্পদের উৎস কী, সে বিষয়ে আনোয়ার হোসেন কখনোই স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বিশ্বস্ত সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন আনোয়ার হোসেন সমিতিকে ব্যক্তিগত প্রভাব দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন।

ওই সমিতির বৈধ রেজিস্ট্রেশন না থাকা সত্ত্বেও টানা ১০ বছর কোনো নির্বাচন না দিয়ে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ধরে রাখেন।

যার ফলে সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে জবাবদিহির অভাব তৈরি হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত দিনে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মাতুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন।

এরপর থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তিনি দলিল লেখার ৯০ শতাংশ কাজ নিজের লোকদের হাতে নিয়ে নিতেন।

প্রতিবাদ করলেও স্থানীয়দের নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চুপ করানো হয় বলে জানা গেছে। এলাকাজুড়ে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলছেন, “একজন সাধারণ দলিল লেখক এত অল্প সময়ে কীভাবে শত কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক হলেন? এর পেছনে নিশ্চয়ই বড় দুর্নীতির চক্র রয়েছে।” তারা দাবি করছেন, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বড় কোন মামলা না থাকলেও জনমনে তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার প্রভাব ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ করার স্বার্থে উক্ত বিষয় নিয়ে  রাজধানীর ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক দলিল লেখক মো. আনোয়ার হোসেনকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন সাড়া দেননি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ