সিরাজদিখানে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী অপহরন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া (১৩)। বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আদালতে বাবা সাইদুল সেখকে নিয়ে এসেছেন মামলা করার জন্য। গত ৩০ মার্চ সে মালখানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে অনলাইন পরিক্ষার এসাইন্টমেন্টের খাতা জমা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পরে স্কুলের পশ্চিম পাশের মাঠে আসা মাত্রই সাইদুল ইসলাম ও তার ভাবি সাথি বেগমসহ আরো ৪/৫ জন মিলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে সে জানায়। সাদিয়া সিরাজদিখান উপজেলার কাকলদি গ্রামের সাইদুল সেখের মেয়ে। অপর দিকে সাইদুল ইসলাম একই গ্রামের এসহাক আলির ছেলে। সাদিয়া আরো জানায়, সাইদুল গংরা তাকে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে অনেকক্ষণ আটকে রাখে। পরে একটি কাগজে তাকে স্বাক্ষর করতে বলে। এ সময় সাদিয়া স্বাক্ষর করতে না চাইলে সাইদুল একটি চাকু বের করে। আমি বলে আমাকে মেরে ফেললেও স্বাক্ষর করবো না। পরে সাইদুল বলে তোকে না তুই এই কাগজে স্বাক্ষর না করলে এই চাকু দিয়ে তোর বাবাকে খুণ করবো। পরে আমি ভয়ে স্বাক্ষর করি।

স্বাক্ষর করার পর আমি সাইদুলকে বলি আমিতো স্বাক্ষর করছি এখোন আমায় ছেড়ে দাও। পরে ও বলে হে তুমিতো কাবিননামায় স্বাক্ষর করছো এখোন তুমি আমার স্ত্রী। ঘরের বৌকে তো আর আটকে রাখা যায়না। তবে আমি যখন ডাকবো তখনি তোমাকে আসতে হবে কারন তুমি এখোন আমার বৌ। পরে সাইদুল ওর ভাবিকে বলে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে। ওর ভাবি আমাকে ওটো দিয়ে নিয়ে এসে বাড়ির সামনে রেখে চলে যায়। এ ব্যাপারে সাদিয়ার পিতা সাইদুল সেখ জানান, গত ৩০ মার্চ তারিখে সাদিয়া আধ ঘন্টার জন্য স্কুলে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে দুঘন্টা পর বাড়িতে ফিরে আসলে এতো দেরী হলো কেন জিজ্ঞাসা করতেই ও কেঁদে দেয়। পরে আমাদের জানায় সাইদুল ইসলাম ও তার ভাবি ওকে জোড় তরে সিএনজিতে তুলে নিয়ে আটকে আমাকে খুণ করার হুমকি দিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বলছে এখোন নাকি আমি ওর বৌ। পরে কে এই সাইদুল আমি খোঁজ নিয়ে আমার স্ত্রী সাথি বেগমসহ অন্যান্য লোক ওর কাছে পাঠাইলে ওরা আমার স্ত্রীকে মোবাইলে সাদিয়ার স্বাক্ষর করা একটা কাগজ দেখিয়ে বলছে সাইদুলের সাথে সাদিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। এই দেখেন কাবিননামা। পরে আমি আমাদের মধ্যপড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজি আ. করিমকে জানাইছি সে কোন ব্যবস্থা নেয়নাই।

সাদিয়ার স্কুলের শিক্ষকদের জানাইছি তার বলছে আপনি মামলা করেন আমরা আপনার সাথে আছি। পরে দির্ঘদিন সাদিয়ার কাবিননামা খোঁজ করে না পেয়ে আদালতে মামলা করতে আসছি। এসে দেখি আদালত বন্ধ তাই মামলা না করে ফিরে যাচ্ছি। পরে এসে মামলা করবো। এ ব্যাপারে স্থাণীয় মধ্যপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ. হাজি করিম জানান, আমার কাছে মেয়ের বাবা আসছিলো। আমি ছেলেটির খোঁজ নিতে আমার ইউনিয়ন পরিষদের ২ মেম্বার আবুল বেপারী আর দিলুকে পাঠিয়েছিলাম তারা গিয়ে ওই ছেলেকে বাড়িতে পায় নাই।

 

আপনার মতামত লিখুন :