সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কোটিপতি সেবক!

খায়রুল আলম রফিক

ইসরাইল আলী সাদেক। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামান্য একজন সেবক (ব্রাদার)। অথচ হাসপাতালটির অনেক কিছুরই নিয়ন্ত্রক তিনি। টেন্ডার পাইয়ে দেয়া, প্রকল্পকাজে হস্তক্ষেপ, হাসপাতালের পাশের রেস্টুরেন্ট, এ্যাম্বুলেন্স ও কার পাকিংসহ যন্ত্রপাতি কেনা সব কিছুই চলে সাদেকের ইশারায়। হাসপাতালের সিট ভাড়া দিয়ে টাকা আদায়, সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আজ অঢেল সম্পদের মালিক । তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী আফম রুহুল হকের মদদপুষ্ট মিঠু সিন্ডিকেট ও সদ্য পদত্যাগী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের আশির্বাদপুষ্ট ছিলেন তৃতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদার সাদেক নামে এ কর্মচারি।

মূলতঃ তাদের শেল্টারে থেকেই সাদেক এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগের পর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ সাদেক এবং তার সিন্ডিকেট সদস্যদের ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট শহরের বালুরচর এলাকায় যৌথ মালিকানায় সাদেকের রয়েছে একটি বিলাসবহুল বাড়ি। ছয় তলা বিশিষ্ট ওই বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের মধ্যে রয়েছে আরো কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। সাদেকের রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে নামে বেনামে বিশাল পরিমান নগদ অর্থ। তার স্ত্রী ব্যবহার করেন ৩০ লাখ টাকার নিজস্ব প্রাইভেটকার।

প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বি.এন.এ) সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক হন ইসরাইল আলী সাদেক। হাসপাতালের ব্রাদার হয়েও মেডিকেলের ভেতরই গড়ে তুলেছেন ন্যায্যমূল্য নামধারী ফার্মেসী । ন্যায্যমূল্য নাম হলেও তার ফার্মেসির ওষুধের দাম বাইরের থেকে বেশি। অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতালের। এই ফার্মেসী থেকে সার্জিক্যাল মালামাল সরবরাহ করা হয় । হাসপাতালের মালামাল এই ফামের্সী থেকে কেনা বাধ্যতামূলক। দামও দুই থেকে তিনগুণ বেশি। পেশায় ব্রাদার হলে কি হবে! হাসপাতালের সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ তিনিই করেন । খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতাল প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরেই একটি এ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডের অনুমতি নিয়ে রাখা হয় অর্ধশত এ্যাম্বুলেন্স ।

এই এ্যাম্বুলেন্স থেকে চাঁদা হিসাবে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। যে অর্থে তিনি স্ত্রীকে ত্রিশলাখ টাকা দামের প্রাইভেটকার উপহার দিয়ে আলোচিত হন। ১১ টি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে সাদেকের নিজেরই।
অভিযোগ রয়েছে, সিলেট দুদক কার্যালয়ের ড্রাইভার নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও আত্বীয়-স্বজনদের চাকুরির ব্যবস্থা করে দেন সাদেক । এই সুযোগটিকেও কাজে লাগিয়ে নিজেকে সুরক্ষা করে চলেছেন সাদেক ও তার সিন্ডিকেট সদস্যরা। সাদেক সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে চিহিৃত নাম গুলোর মধ্যে অফিস সহকারি (টেন্ডার) জুমের আলী , হিসাব রক্ষক নজরুল ইসলাম, হিসাব সহকারি আবুল কালাম, সিনিয়র স্টোর কিপার আতিয়া করিম, সার্জিক্যাল স্টোর কিপার ওহেদুর রহমান অন্যতম। ওষুধ পাচার, টেন্ডার প্রসেজিংএ পার্সেন্টিজ, কমিশন না দিলে এ সিন্ডিকেট বৈধ কাগজপত্রে ত্রæটি-বিচ্যুতি দেখিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে।

এক কথায় বøাকমেইল করে। তবে তাদের চাহিদামতো টাকা পেলে ত্রæটিপূর্ণ কাগজ পত্রও সঠিক হয়ে কোনো এক ইশারায়। এসব সিন্ডিকেড ভাংতে ইতিমধ্যে দুর্নতি দমন কমিশন (দুদক) মাঠে নেমেছে বলে জানা গেছে। দুদকের অনুসন্ধানে সিন্ডিকেটের কোটি টাকার সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও আশাবাদি সংশ্লিষ্টরা।
এরআগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মোগলাবাজার থানার অন্তর্ভুক্ত আলমপুর থেকে র‌্যাব -৯ এর অভিযানে অপকর্মের দায়ে গ্রেপ্তার হয় সাদেক। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মোগলাবাজার থানায় মামলা নং-৪ দায়ের করা হয়। হাসপাতালের অফিস সহকারি জুমের আলী, হিসাব রক্ষক নজরুল ইসলামসহ সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হলে কারাগারে রয়েছেন একজন ঠিকাদার। সিলেট এমএজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশ লাল রায় বলেন, অনিয়মের বিষয়টি সঠিক না,আমি এসে আগের চেয়ে ভাল করেছি।

আপনার মতামত লিখুন :