বরিশাল জেলা প্রতিনিধি:
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সেতুর নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। শনিবার (আজ) সকালে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম, মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার এবং মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত হন। সকাল ১০টার দিকে নাজিরপুর ও রামারপোল গ্রামের শতাধিক মানুষ সেতুর পূর্ব পাশ থেকে ‘উদ্বোধন মানি না’ ¯েøাগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সামনেই সেতুর নামফলক ভেঙে ফেলেন। পাশাপাশি সভামঞ্চ, চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং অনুষ্ঠানের জন্য বিছানো লাল গালিচা তুলে নিয়ে যান হামলাকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুলাদী থানা পুলিশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে প্রশাসনের তৎপরতায় এলাকা শান্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটির পূর্বনির্ধারিত নাম ছিল ‘নাজিরপুর–রামারপোল সৌহার্দ্য সেতু’। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই সেতুটির নাম পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্থানীয়রা আগেই প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকার সঙ্গে নাজিরপুর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর ‘নাজিরপুর–রামারপোল সৌহার্দ্য সেতু’ নামে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর চলতি বছর মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থাতেই সেতুর উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মুলাদী থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন,স্থানীয় কিছু লোকের হামলা ও ভাঙচুরের কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেতুটির নাম পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ রাখা হয়েছিল। তবে নাম পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তির বিষয়টি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় নবনির্মিত সেতুটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই পড়ে রয়েছে। নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ