সোনাতলায় কয়েকটি ব্রিজে অলৌকিক সাইনবোর্ড নিয়ে নানা কৌতুহল

আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্নস্থানে কয়েকটি ব্রিজের পাশে ২২ লক্ষ টাকা ব্যায়ের সাইনবোর্ড দেখে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসির মাঝে। এলাকাবাসির দাবি রাতের আধারে লোকচক্ষুর আড়ালে সাইনবোর্ডগুলো লাগানো হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায় প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস প্রকল্পের কাজটির অর্থায়নকারী সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক। সোনাতলা উপজেলায় একটি প্যাকেজে ৬টি ব্রিজের সংস্কার কাজ ২২,৩০,৮০১ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের পহেলা জানুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারীতে শেষ হবার কথা। নির্দিষ্ট তারিখও দেয়া আছে সাইনবোর্ডে, কিন্তু সংস্কারের কাজ শুরু না হলেও সাইনবোর্ড লাগিয়ে তা শেষ করার একটি নাটক মঞ্চায়িত করেছে এলজিইডি। এমন ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাগুলোতে। তারা বুঝে উঠতেই পারছেনা কি রয়েছে এই সাইনবোর্ডের পেছনে সাইনবোর্ড দেখে বোঝার কায়দা নেই যে, ব্রিজটি সংস্কার নাকি নির্মান করা হয়েছে।

ব্রিজগুলো প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগের নির্মানকৃত তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরো তুঙ্গে।
এ বিষয়ে এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলি মোঃ গোলাম মোর্শেদ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন এটি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের কাজ ২৮ এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মিটিং ছিলো যার কারনেই সাইনবোর্ডগুলো লাগানো হয়েছে। কাজের সময় শেষ হয়েছে দুমাস আগে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত সময় বারানোর আবেদন করা আছে আশাকরি এ কয়দিনেই শেষ হয়ে যাবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের কিছু ঝামেলার কারনে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ্য করেন তিনি। বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের সত্বাধীকারি মোঃ ফিরোজ আহমেদ রিজুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন। পূর্বের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ব্রিজের কাজগুলো ফেলে রেখে যখন আর না করতে পারেনি, তখন নির্বাহী প্রকৌশলী বিব্রত হয়ে আমাকে দিয়েছে। সোনাতলায় আমার একটি রাস্তার কাজ চলছে যার কারনে আমাকে বলেছিল কাজগুলো আমাকে একটু উঠায়ে দেন তাই আমি কাজ করছি। এলাকাবাসি ও সচেতন মহল ধারনা করছেন প্রতিটি ব্রিজে যে পরিমান খরচ দেখানো হয়েছে তার ১০ ভাগের এক ভাগ অর্থও ব্যয় হবেনা।

তারা বলছেন এটি সাধারণ মানুষ ও সরকারের সাথে প্রতারণা করে সার্থন্বেষী মহলটির পকেট ভাড়ি করা ছাড়া আর কিছুই না। সোনাতলা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন উপজেলায় ৬ টি ব্রিজের সংস্কার কাজ করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ কারনে একটি ব্রিজের কাজ করা হবেনা বাকি ৫টির কাজ আগামি ৭ দিনের মধ্যে শেষ করা হবে। ৭ দিনেই ৫টি ব্রিজের সংস্কারের কাজ শেষ করতে ২২ লক্ষ টাকা শেষ হয়ে যাবে এমন ঘটনায় নানা মহলে চলছে সমালোচনার ঝর। সচেতন মহলের দাবি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃতভাবে কাজ করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা অতিব জরুরী। সেইসাথে কোন কারচুিপ থাকলে তা আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবীও করেন তারা।

 

আপনার মতামত লিখুন :