হরিলুটের রাজত্ব চলছে বিএমডিতে : সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ১০ কোটি টাকার কম্পিউটার ক্লোজটার এখন অকেজোঁ

…………….সোহেল রানা শুভ

 

হরিলুটের রাজত্ব চলছে বিএমডিতে। বাংলাদেশ মেটোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই প্রতিষ্ঠানে পিয়ন থেকে শুরু করে অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ পর্যন্ত সবাই যে যার ইচ্ছে মতো দায়িত্ব পালন করছে। করোনা দুর্যোগকালে ২৫ শতাংশ জনবল নিয়ে অফিসকার্য পরিচালনায় বিধি থাকলেও অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ সহ ৯৮শতাংশ কর্মকর্তাই অনুপস্থিত। দুর্নীতির অক্টোপাস হিসেবে পরিচিত এই অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদের সীমাহীন দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধানে একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে সংবাদকর্মীরা যাতে কোন প্রকার তথ্য উদ্ঘাটন করতে না পারে সে জন্যে তাদেরকে অধিদপ্তরের ভেতর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সত্যতা নিশ্চিত করে অধিদপ্তরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন। জানা গেছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের অপারেশনাল পূর্বাভাস কাজের জন্য ২০১৫/১৬ অর্থবছরে ৩ কোটি টাকা মুল্যে কেনা একটি হাইপারফর্মেন্স কম্পিউটার বা পিসি ক্লোজটার থাকা সত্তে¡ও ২০১৬/১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব বাজেট হতে নতুন চাহিদা সৃষ্টির মাধ্যমে ৩ গুণ বেশী দামে অর্থাৎ ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি কম্পিউটার ক্লোজটার কেনা হয়। বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় এটি অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও প্রশাসনিক মন্ত্রনালয়ের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই তা কেনা হয়। আর টেন্ডার বিজ্ঞাপন বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় প্রচার না করে সীমিত প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশ করা হলেও সিপিটিইউ এর ওয়েবসাইটে তা দেখা যায়নি।

তাছড়া পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ তার নিজের পছন্দমতো কোম্পানীকে কাজ দেয়ার জন্য কম্পিউটার ক্লোজটারটির কারিগরি স্পেসিফিকেশনসহ দরপত্রের যাবতীয় শর্তাবলী ঐ কোম্পানী কর্তৃক প্রস্তুত করে দরপত্র সিডিউল তৈরি করেন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র আহŸান করেন যাতে অন্য কোন কোম্পানী কমপ্লাই না করতে পারে। এতে ৫টি দরপত্র জমা পড়ে। কিন্তু পরিচালক তার পছন্দের ঠিকাদারকে ‘মেসার্স আদাসা কোম্পানী’ ৫ম সর্বনি¤œ দরদাতা হওয়া সত্বেও এই কোম্পানীকেই নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড (এনওএ) প্রদান করে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।

এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ সহ তার সিন্ডিকেট কাস্টমস ফাঁকি দেয়ার জন্য পরিচালকের চিঠিতে বিমানবন্দরে উক্ত পিসি ক্লোজটারকে কাচামাল হিসেবে ঘোষনা করে তা খালাস করে অন্তত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে উক্ত টাকায় পকেট ভারি করেন। তবে ১০ কোটি টাকার এই পিসি ক্লোজটারটি এখন অকেঁজো হয়ে পড়ে আছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের লাল ভবনে। অপর দিকে, বিশ^ ব্যাংকের লোনের টাকায় ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবা প্রকল্পের আওতায় আবহাওয়া তথ্য সেবা ও আগাম সতর্কবানী পদ্ধতি জোড়দারকরন (কম্পোনেন্ট) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত ডিপিপিতে ১ হাজার জনের ১ সপ্তাহ করে লোকাল প্রশিক্ষনের জন্য ৩ কোটি ৪০ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দ পায় অধিদপ্তর।

১ হাজার জনের লোকাল প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য পরিচালক নিজের পছন্দ মতো কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই পাকিস্তানী মালিকানাধীন একটি কোম্পানীকে কাজটি পাইয়ে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ৩২টি ক্যাটাগরিকে এই প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ১টি ক্যাটাগরি এমএস ওয়ার্ডের জন্য ৫ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন দিয়ে জন প্রতি ৫ হাজার টাকা খরচ দিয়ে প্রশিক্ষন সমাপ্ত করে জন প্রতি ৩৪ হাজার টাকা প্রশিক্ষন খরচ বাউচার দেখান বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সুত্র। পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ রাজস্ব খাতভুক্ত ৫টি গাড়ী নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে ব্যবহার করেন। তিান নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়, এমনকি বিদেশে অর্থ পাচার সহ মালয়েশিয়ায় বাড়ী কিনেছেন বলেও জানা গেছে।

পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদের এসব দুর্নীতি সম্পর্কে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়বার সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তৃতীয় ধাপে গেলে এ প্রতিবেককে অধিদপ্তরের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি। এ ছাড়াও সাংবাকিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন কর্তৃপক্ষ। অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে নিরাপত্তাকর্মী সুলতান আহমেদের মোবাইল ফোনে নিরাপত্তা কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন আমাদের কন্ঠকে বলেন, অ্যাপয়েনমেন্ট ছাড়া অধিদপ্তরের ভেতর সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধ রয়েছে।

কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন কোন কর্মকর্তাই অফিসে আসেনা। কিছু জানতে চাইলে আপনারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে চলে যান। এবিষয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করে আমাদের কন্ঠকে বলেন, মোবাইলে কোন কথা বলবো না। আমি অফিসে এসে আপনাকে ফোন দিলে আপনে দেখা করবেন। এরপর তিনি আর ফোন দেননি। আমাদের কন্ঠ থেকে বারংবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হযনি।

আপনার মতামত লিখুন :