১০ কোটি টাকার সম্পতি প্রভাবশালীদের দখলে

মাহফিজুল ইসলাম রিপন

ভূয়া কাগজে ১০ কোটি টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে নিয়েছেন প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা। দখলিয় জমিতে নির্মান করেছেন বিভিন্ন অবকাঠামো। জমি উদ্ধারে সরকারী ভূমি অফিসে ধরণা দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য শ্যামল সরকার। কিন্তু প্রভাবশালীদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকীর মুখে তিনি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসেছেন পার্বতীপুরে। গতাল শুক্রবার বেলা ১১টায় পার্বতীপুর মিডিয়া কর্নারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভূমি উদ্ধারে সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেম কামনা করেন শ্যামল সরকার। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রেল কর্মচারী শ্যামল সরকার জানান, তার বাড়ী গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর গ্রামে। নদী ভাঙ্গনের কারনে তারা গৃহহীন হয়ে পড়লে পক্ষাঘাতগ্রস্ত পিতাকে নিয়ে তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চলে আসেন। রেলে চাকুরী হওয়ার সুবাদে পার্বতীপুরের বাবুপাড়ায় সরকারী বাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তার বাবার নামিয় রেখে যাওয়া গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকায় তার বাবার ৪৯ শতক জমিতে দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং বিএস গোডাউন নির্মিত হয়েছে। এছাড়াও আবু বক্কর সিদ্দিক ৮শতক, পারভিন আকতার ৫.৫শতক, আমেনা বেগম ১৬শতক, শিমুলী বেগম ৫.৫শতক, আঞ্জুমানয়ারা বেগম ১১ শতক জমি দখলে নিয়ে খারিজ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর খারিজ বাতিল চেয়ে দখলকারী ইসহাহক ভূইয়া, আব্দুল জব্বার সরকার, আব্দুল মালেক মিয়া, আব্দুর রশিদ ও পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে। অপর দিকে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জমি দখলকারী আবু বকর, পারভীন আক্তার, আমেনা বেগম শিমুলী বেগম ও আঞ্জুমানারা বেগম ও দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট আবেদন করলেও বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি। আমি জমি উদ্ধারের জন্য সুন্দরগঞ্জ গেলে দখলকারীদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে নানা ভাবে এলাকা ছাড়ার হুমকী প্রদান করছেন।
দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগকারী আমার কাছে আসলে আমি তাকে সার্বিক সহযোগিতা করবো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল-মারুফ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :