২৩ ঘন্টা পর সারা দেশের সাথে সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক” ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন

শাকির আহম্মেদ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

 

মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁওয়ে ট্রেন দূর্ঘটনার প্রায় ২৩ ঘন্টা পর সিলেটের সাথে সারা দেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুর্ঘটনার পর রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২, ৪৩ মিনিটে শ্রীমঙ্গল লেওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রীবাহি পাহারিকা এ´প্রেস ট্রেনটি দুর্ঘনাস্থল অতিক্রম করে সিলেটের সাথে সারা দেশে স্বাভাবিক রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এর আগে ১০ টার দিকে দুর্ঘটনা কবলিত তেলবাহী ট্রেনটির বগি উদ্ধা ও লাইন মেরামত করে প্রথমে একটি রিলিফ ট্রেন লাইনের উপর দিয়ে চালিয়ে লাইন পরিক্ষা নিরিক্ষা করা হয়। তবে কালভাট মেরামতসহ আরও কিছু কাজ বাকী থাকায় আরও কয়েকদিন মেরামত করা রেল লাইনের ৫’শ মিটার এলাকা দিয়ে ট্রেন পাড়ি দেবে ধীর গতিতে। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার (গ্রেড-১) মো. আফছার উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আফছার উদ্দিন বলেন, আখাউড়া থেকে বগিমেরামতকারী ইঞ্জিন এসে লাইনের ওপর ছিটকে পড়া ট্যাংকারগুলো সরিয়ে ট্রেনলাইন মেরামতের পর রবিবার দুপুর ১২, ৪৩ মিনিটের প্রথম যাত্রী বাহি পাহারিকা এ´প্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে শ্রীমঙ্গল স্টেশন ছেড়ে যায় এবং সারা দেশের সাথে পুনরায় চালু হয় ট্রেন চলাচল।

রেলওয়ে কুলাউড়া অঞ্চলের সহকারি প্রকৌশলী দুলাল চন্দ্র দাশ জানান, ৫’শ মিটার এলাকায় রেল লাইন, স্লিপার, কালভার্টসহ বেশ ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে। এদিকে শ্রীমঙ্গলের এই ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ঢাকা) মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী (ঢাকা) সুলতান আলী, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (ঢাকা) আবু হেনা, বিভাগীয় প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) রেজাউল করিম ও বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী (ওয়াগন) রেজাউল করিম। ওই আগামী ৭ দিনের ভেতর এই তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট দেবে। তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ঢাকা) মঈনুল ইসলাম টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য শনিবার দূপুর সাড়ে ১১ টার দিকে চট্রগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার সময় সাতগাঁও রেলস্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৬ বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে ৪টি বগি উল্টে গেলে ওয়াগানে থাকা পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আজও দ্বিতীয় দিনের মতো স্থানীয়রা বিভিন্ন ভাবে ওই তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :