শাহীন মুন্সী, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কর্মসূচিকে ঘিরে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার তিনদিন পর শনিবার পরিবেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিবার্হী অফিসার এম. রকিবুল হাসান জানান, শনিবার সকাল ৬হতে রাত ৮ পর্যন্ত ১৪ ঘন্টার কারফিউ শিথিল থাকলেও ১৪৪ ধারা জারি ছিল। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন জেলা প্রশাসক মহোদয়।
গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা যায় কারফিউ শিথিল থাকায় আজ লোকজন ও যানবাহন কিছুটা বাড়লেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয় মানুষদের দাবি গোপালগঞ্জ জেলায় এখন কোন রকম সংঘাত না থাকলেও গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে পুরুষদের বাইরে কম দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা আরো জানান, আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন না এমন মানুষদেরও বিনা অপরাধে ধরে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই গ্ৰাম ও শহর জুড়ে আতঙ্ক উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন শুক্রবার রাতেই ঘোষণা করেছিলো, কারফিউ শনিবার সকাল ছয়টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিথিল থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন সরকার মানবজমিন কে বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে দুষ্কৃতকারীদের খোঁজে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক এলাকায় আয়োজিত এনসিপি’র সমাবেশস্থলে হামলার ঘটনা ঘটেছিলো।
ওই ঘটনার জের ধরে প্রথমে ১৪৪ ধারা ও পরে কারফিউ জারি করেছিলো প্রশাসন। মাঝে শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ বহাল ছিল।
এদিকে গোপালগঞ্জে একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রকাশ্যে গুলি চালনার ঘটনায় পাঁচ জন নিহত এবং অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।
এঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি মামলায় মোট ৩ হাজার ৮জনকে আসামি এবং ৩শ ৬ জনকে গ্ৰেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা ও গ্ৰেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ রুহুল আমিন সরকার।