মিজানুর রহমান সুমনঃ
গত ফ্যাসিস্ট সরকার থাকাকালীন সময় এই দেশের প্রতিটি জনসেবামূলক অধিদপ্তর গড়ে উঠেছিল দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে। এর মধ্যে অন্যতম দূষিত প্রতিষ্ঠান ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, যেখানে সরকারী সেবার আড়ালে জনগণের টাকায় বেতনভুগী কর্মকর্তারাই জনগনের সেবাদাতা হওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির কালো ছায়ায় জনগণদের জিম্মি করে নিজেদের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করে পরিণত হয়েছে দুর্নীতিবাজ ভক্ষকে।
আওয়ামী সরকার থাকাকালীন সময় এমনই এক আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া দুর্নীতিবাজ রাজধানীর বাড্ডা ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ভূমি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আসাদুজ্জামান লেবু একজন দিনমজুরের ছেলে থেকে ভূমি সরকারি কর্মকর্তা পদে বসে দুর্নীতি আর অনিয়মের সিন্ডিকেটের অন্যতম গডফাদার বনে যাওয়ার নেপথ্যের ইতিহাস উঠে আসবে এই প্রতিবেদনে। মিজানুর রহমান সুমনের তথ্যচিত্র সংগ্রহণে আরো থাকছে বিস্তারিত।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার হরগজ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল মোলা কান্দি গ্রামে সোহরাব হোসেনের ঘরে দুই ছেলে সন্তানের পর সর্বকনিষ্ঠ ছেলে জন্ম নেয় আসাদুজ্জামান লেবু। সোহরাব হোসেন ছিলেন পেশায় একজন দিনমজুর। এক সময় ৩০ টাকা মজুরিতে মাসিক হিসেবে বাড়িতে বাড়িতে রোজ দিনমজুরের কাজ করে জীবনযাপন করতেন তিনি। এমন দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা আসাদুজ্জামান লেবু নিজের এলাকা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাড়ি জমান।
সূত্রে জানা যায়, পড়ালেখা শেষে জুনায়েদ নামের এক ভূমি সরকারি কর্মকর্তার বোনকে বিয়ে করার পর রাজশাহীতেই এক ভূমি অফিসে তার নিয়োগ হয়। এরপর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের গ্রামের মানুষ হওয়ার সুবিধা নিয়ে তার ছত্রছায়ায় শুরু হয় তার লাগামহীণ দুর্নীতি ও অনিয়মের কার্যক্রম। দিনে দিনে তার দুর্নীতি আর অনিয়মই যেনো সেবা প্রার্থীদের নিকট নিয়ম হয়ে যায়। আওয়ামী সরকারের অন্যতম ফ্যাসিস্ট হওয়ার কারনে বাংলাদেশ ভূমি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব পদে নিজের অবস্থান নিয়ে গড়ে তুলেন আরেক কালো জগতের সিন্ডিকেট।
গত আওয়ামী সরকার থাকাকালীন সময় থেকে এই পর্যন্ত দুর্নীতি আর নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে অনেক অবৈধ সম্পদের পাহাড়। সরকারী বেতনভুগী কর্মকর্তা হওয়ার পরেও নিজের গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল বাড়ী ও কোটি টাকার গরুর খামার করেছেন তিনি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান লেবু একজন চরম নারী লোভী। বিভিন্ন মডেল ও চলচিত্রে কাজ করা নারীদের কিছু দালালের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে নারী ভোগের নেশায় লিপ্ত হন তিনি। এছাড়াও গত জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগকে বিপুল অর্থের মাধ্যমে আন্দোলনে সহিংসতা করানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজধানীর বাড্ডা ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান লেবুর সীমাহীন দুর্নীতিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবা প্রার্থীরা। এখন জনমনে প্রশ্ন জাগছে, ফ্যাসিস্টের দোসর দুর্নীতিতে মোড়ানো এই আসাদুজ্জামান লেবু এত অনিয়ম ও দুর্নীতি করার পরও কিভাবে নিজের পদে বলবত আছেন? এবং বাংলাদেশ ভূমি কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব পদে এমন ফ্যাসিস্টের পরিচালনায় দুর্নীতির কালো জগতের অবসান ঘটবে কবে?
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় আনুমানিক প্রায় দেরশ কোটি টাকার আলিশান তিনটি বাড়ি ও জনগনের টাকা আত্মসাৎ করে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত প্রতিবেদন থাকছে আগামী পর্বে… চোখ রাখুন আমাদের কন্ঠে।