নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাসপোর্ট অফিসের কামাল এখন আতংকের নাম। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পরে এখনো বেপরোয়া বর্তমানে মাগুরা পাসপোর্টের উপপরিচালক খন্দকার কামাল হোসেন ওরফে ডিডি কামাল।
দুর্নীতি, ঘুষ, নারী কেলেঙ্কারি আর মাদক- সব মিলিয়ে মাগুরা পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও স্বৈরাচার আওয়ামী দোসর মোহাম্মদ কামাল হোসেন খন্দকার এখন এক বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এর আগেও মুন্সিগঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় দালাল সিন্ডিকেট, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় হয়েছিল পুরো জেলা। বদলি হয়ে এখন মাগুরায় এলেও বদলায়নি তার কর্মকৌশল- শুধু জায়গা বদলেছে, অপকর্মের ধারা সেই আগের মতোই প্রবল।
মুন্সিগঞ্জে তার বিরুদ্ধে উঠেছিল ফিঙ্গারপ্রিন্টে সমস্যা সৃষ্টি করে দালালের মাধ্যমে টাকা আদায়, পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত করাতে ঘুষ নেওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্রে সামান্য জটিলতা দেখিয়ে পুরনো এমআরপি নবায়নের নামে হাজার হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ। এসব কাজে অলিখিতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল অর্ধশতাধিক দালাল, যারা অফিসের বাইরেই নয়, সরাসরি অফিসের ভেতরেই বসে কাজ করত। স্থানীয়ভাবে তার প্রভাব ও দাপট এতটাই ছিল যে, কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
এরমধ্যেই আসে আরও ভয়ংকর অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কামাল খন্দকার ঢাকায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় একাধিকবার হাতেনাতে ধরা পড়লেও রহস্যজনক কারণে শাস্তির মুখে পড়েননি। মাদকের নেশায় জড়িত থাকার তথ্যও উঠে এসেছে তার একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে, কিছু দালালের মাধ্যমে মাদকের যোগানও নেওয়া হতো তার অফিস কক্ষে বসেই।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, এসব অভিযোগ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা বিভাগীয় কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং একের পর এক বদলির মাধ্যমে তাকে “রক্ষা” করা হয়েছে। বর্তমানে মাগুরা পাসপোর্ট অফিসে একই পদ্ধতিতে আবারও সক্রিয় হয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এখানেও দালাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে, আবেদনকারীদের নানাভাবে হয়রানি করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।